রাজ্যে যা পরিকাঠামো রয়েছে সবই বাম আমলে তৈরি, ১১ বছরে নতুন শিল্প পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি - সুজন

সুজন বলেন, তথ্যের অধিকার আইনে বিধানসভার প্রশ্নের মাধ্যমে অনেকবার আমরা জানতে চেয়েছি, শিল্প সম্মেলনে নতুন শিল্পের জন্য কত বিনিয়োগ এল, কত কর্মসংস্থান হল সরকার জানাক। সরকার জানায়নি।
রাজ্যে যা পরিকাঠামো রয়েছে সবই বাম আমলে তৈরি, ১১ বছরে নতুন শিল্প পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি - সুজন
সুজন চক্রবর্তীনিজস্ব চিত্র

শিল্প সম্মেলনের নামে আসলে রাজ্যের কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছেন। এমনই অভিযোগ করলেন সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি অর্থ খরচ করে গালভরা সম্মেলনের নাম দিয়ে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের শিল্পের যা পরিকাঠামো রয়েছে, তার সবই বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তৈরি। গত ১১ বছরে তৃণমূলের আমলে রাজ্যে নতুন কোনও শিল্প গড়ার পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

বুধবার বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শিল্পায়নে তাঁর সরকারের সাফল্য এবং বামফ্রন্ট সরকারের আমলে শ্রমদিবস নষ্টের নানা অভিযোগের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। সেগুলিকে মিথ্যাচার বলে দাবি করে সুজন চক্রবর্তী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নিজের আমলে তোলাবাজি ছাড়া অন্য কোনও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়া শিল্প ও পরিষেবা চালু করেছেন শ্বেতপত্র প্রকাশ করে তা বলুন। ছয় বছরের ছ'টা শিল্প সম্মেলন করেছেন। কিন্তু ছ'টা কারখানার নাম বলুন যেগুলো তিনি ফিতে কেটে উদ্বোধন করেছেন।

তাহলে বিপুল খরচ করে শিল্প সম্মেলনের লাভ কী? সুজন বলেন, তথ্যের অধিকার আইনে বিধানসভার প্রশ্নের মাধ্যমে অনেকবার আমরা জানতে চেয়েছি, শিল্প সম্মেলনে নতুন শিল্পের জন্য কত বিনিয়োগ এল, কত কর্মসংস্থান হল সরকার জানাক। সরকার জানায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার করছেন ১৪ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ এনে এক কোটি ৩৮ লক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তোলাবাজি ছাড়া কোনও শিল্পই হয়নি রাজ্যে। তোলাবাজি বন্ধ হয়নি হলদিয়া শিল্পাঞ্চলেও।

তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো, সড়ক, সেতু, যা শিল্পকেন্দ্র রয়েছে রাজ্যে, সবই বাম আমলে তৈরি। মুখ্যমন্ত্রী যে লেদার শিল্পকে শোকেস করার কথা বলেছেন, সেটাও বামফ্রন্ট সরকার তৈরি করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, বামেদের আমলে বছরে ৭৫ লক্ষ শ্রম দিবস নষ্ট হত। কিন্তু এখন রাজ্যের নো বনধ, নো স্ট্রাইকের জন্য কোনও শ্রমদিবস নষ্ট হয় না।

তার পাল্টা সুজন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম আমলে ৭৩ বার বনধ ডেকে ছিলেন। রাজ্য সরকারের স্টেট অফ এনভারমেন্ট রিপোর্ট বলছে, ২০১৬ সাল থেকে ২১ সালের মধ্যে ২১ হাজার শিল্প কেন্দ্র কমে গিয়েছে। বড় শিল্প ১৩৩৭ থেকে কমে হয়েছে ১০৬৬। ২১ হাজার কেন্দ্র বন্ধ হয়ে থাকলে বছরের ৪০ কোটি শ্রমদিবস কমেছে। এখন রাজ্যে দু-একটা ধর্মঘট হয়। তার পাঁচ গুণ বেশি ছুটি ঘোষণা করে তৃণমূল সরকার নিজেই শ্রম দিবস নষ্ট করেছে।

সুজনের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সি যাতে পিছনে না লাগে, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে কেন অনুরোধ করছেন? মুখ্যমন্ত্রী নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে পারেন, যাতে সোনা পাচার থেকে নারদ কেলেঙ্কারির হাত থেকে বাঁচতে সব ধামাচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।

এদিকে বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, ক্ষমতায় এলে বিজেপি সিঙ্গুরে শিল্প করবে। তার পাল্টা সুজন বলেন, সিঙ্গুরে যখন বামেরা শিল্পায়নে উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে যাঁরা এক জোট হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাজনাথ সিং, তথাগত রায়ও। সুকান্তবাবু কি রাজনাথ সিংয়ের অনুমতি নিয়ে সিঙ্গুরে শিল্প হওয়া কথা বলছেন? প্রশ্ন তোলেন প্রবীণ এই বাম নেতা।

সুজন চক্রবর্তী
নাড্ডার 'বিশেষ নজর দিতে হবে' মন্তব্যের পরই সাম্প্রদায়িক হিংসা, অভিযোগ CPIM ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.