কোভিডের কারণে অনাথ শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি সোনিয়া গান্ধীর

প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানিয়েছেন, এই শিশুদের জীবনে যে ট্র‍্যাজেডি ঘটেছে, তারপর তাঁদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।
কোভিডের কারণে অনাথ শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি সোনিয়া গান্ধীর
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সোনিয়া গান্ধীফাইল ছবি সংগৃহীত

কোভিডের কারণে অনাথ হওয়া শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানিয়েছেন, এই শিশুদের জীবনে যে ট্র‍্যাজেডি ঘটেছে, তারপর তাঁদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।

চিঠিতে সনিয়া গাঁধী লিখেছেন, "কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে যে সমস্ত শিশুরা তাঁদের বাবা-মা দু'জনকেই অথবা পরিবারের উপার্জনকারী বাবা অথবা মা-কে হারিয়েছে, নবোদয় বিদ্যালয়ে তাদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়ে আমি এই চিঠি লিখছি আপনাকে। একজন দেশবাসী হিসেবে আমি মনে করি, এই ভয়াবহ ট্র‍্যাজেডি যা তাদের দুঃসহ কষ্ট দিয়েছে, এর পর তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশা দেখাতে আমরা তাদের কাছে ঋণী।"

কোভিড-১৯ এর ফলে শিশুরা তাদের বাবা-মা উভয়কে বা যে কোনো একজনকে হারিয়েছে, গোটা দেশে এরকম ঘটনা প্রচুর ঘটেছে। চিঠিতে সনিয়া গাঁধী লিখেছেন, "এই শিশুরা ট্রমাতে চলে গেছে। এদের স্থিতিশীল শিক্ষা বা ভবিষ্যতের জন্য কোনো সাপোর্ট নেই।"

চিঠিতে কংগ্রেস প্রধান স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, দেশজুড়ে এই নবোদয় বিদ‍্যালয় গড়ে তোলা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা তাঁর স্বামী রাজীব গাঁধীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উত্তরাধিকার ছিল। তিনি লেখেন, "গ্রামীণ অঞ্চলের মেধাবী যুবকদের কাছে উচ্চমানের আধুনিক শিক্ষাকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী‌ করে তোলা তাঁর (রাজীব গাঁধী) স্বপ্ন ছিল।" তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে গোটা দেশে এরকম ৬৬১টি বিদ‍্যালয় রয়েছে।

কংগ্রেস সভানেত্রীর এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ তথা তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধী। নিজের ট‍্যুইটারে এই চিঠি পোস্ট করে তিনি লেখেন, "কোভিডের ফলে শিশুরা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে। অনেকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করার জন্য এবং নবোদয় বিদ্যালয়ে তাদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। ভারত সরকারের সেই কথা শোনার সময় এসেছে।"

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in