রাজস্থানে 'রিসর্ট বন্দী' বিধায়কেরা, রাজ্যসভা ভোটে ঘোড়া কেনাবেচার আশঙ্কায় কংগ্রেস!

মিডিয়া ব্যারন সুভাষ চন্দ্রকে জেতাতে ইতিমধ্যেই নির্দল, ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টি (BTP), রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি (RLP)-র সঙ্গে তলে তলে আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি নেতারা।
রাজস্থানে 'রিসর্ট বন্দী' বিধায়কেরা, রাজ্যসভা ভোটে ঘোড়া কেনাবেচার আশঙ্কায় কংগ্রেস!
প্রতীকী ছবি

রাজ্যসভা ভোটে রাজস্থান থেকে প্রার্থী হয়েছেন মিডিয়া ব্যারন সুভাষ চন্দ্র। তাঁকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি। তবে তাঁকে জেতানোর জন্য প্রয়োজনীয় ভোট বিজেপির হাতে নেই। এমন পরিস্থিতিতে ঘোড়া কেনাবেচা করতে পারে বিজেপি, এই আশঙ্কা দলীয় বিধায়কদের ‘রিসর্ট-বন্দী’ রাখার কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার, সকলকে পাঠানো হচ্ছে উদয়পুরের একটি রিসর্টে। সম্প্রতি যে রিসর্টেই দলের চিন্তন শিবির হয়েছিল।

এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট স্বয়ং। জানা যাচ্ছে, ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টি (BTP)-র বিধায়করা ছাড়াও অন্যান্য নির্দল বিধায়কেরা বর্তমানে অশোক গেহলট সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ। যে বিষয়টি কংগ্রেসকে খুবই চাপে ফেলেছে।

এদিকে আবার রাজ্যপাল কালরাজ মিশ্র এবং বিধানসভার স্পিকার সিপিকে চিঠি দিয়েছে বহুজন সমাজ পার্টি (BSP)। যেখানে দাবি করা হয়েছে, বিএসপির প্রতীকে জেতা ৬ জন বিধায়ক, যারা কংগ্রেসে চলে গেছেন তাঁদের রাজ্যসভা নির্বাচনে ভোটদানে বাধা দেওয়া হবে।

চিঠিতে রাজস্থান বিএসপি’র সভাপতি ভগবান সিং বাবা জানিয়েছেন, ‘যেহেতু সুপ্রিম কোর্টে বিধায়কদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে একটি মামলা চলছে, তাই এই ছয় বিধায়ককে রাজ্যসভা নির্বাচনে ভোট দিতে বাধা দেওয়া উচিত। কারণ, উচ্চকক্ষের নির্বাচনে কোনো দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসপি।’

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর, যে ৬ জন বিধায়ক বিএসপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন, তারা হলেন- রাজেন্দ্র গুধা, লাখন মীনা, দীপচাঁদ খেরিয়া, সন্দীপ যাদব, জোগিন্দর আওয়ানা এবং ওয়াজিব আলি।

ক্ষমতাসীন কংগ্রেস রাজ্যসভার প্রার্থী করেছে রণদীপ সুরজেওয়ালা, মুকুল ওয়াসনিক এবং প্রমোদ তিওয়ারিকে। ঘনশ্যাম তিওয়ারিকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। বিজেপির সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সুভাষ চন্দ্র।

আগামী ১০ জুন রাজস্থানে ৪টি রাজ্যসভা আসনে ভোট হবে। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসেবে কংগ্রেসের দু’টি এবং বিজেপির একটিতে সরাসরি জেতার কথা। চতুর্থ আসনটিতে দ্বিতীয় পছন্দের ভোটে ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, মিডিয়া ব্যারন সুভাষ চন্দ্রকে জেতাতে ইতিমধ্যেই নির্দল, ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টি (BTP), রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি (RLP)-র সঙ্গে তলে তলে আলোচনা শুরু করেছেন বিজেপি নেতারা।

২০০ সদস্যের রাজস্থান বিধানসভায়, প্রতিটি রাজ্যসভার প্রার্থীর জয়ের জন্য ৪১ টি ভোট প্রয়োজন। এ সময় রাজ্যে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ১০৮ এবং বিজেপির ৭১। এক্ষেত্রে বিজেপির সমর্থন ভোট পাওয়ার পর জিততে গেলে সুভাষ চন্দ্রের আরও ১১ টি ভোট দরকার। আর তৃতীয় আসন পেতে হলে কংগ্রেসের আরও ১৫টি ভোট প্রয়োজন।

ফলে, চতুর্থ আসনে কে জিতবেন, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা চলে গেছে রাজ্যের ছোট দলগুলির হাতে। রাজস্থানে ১৩ জন নির্দল বিধায়ক আছেন, রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি (RLP)-র ২ জন বিধায়ক, ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টি (BTP)-র ২ জন বিধায়ক এবং সিপিআইএম-এর ২ জন বিধায়ক আছেন। আগামী ১০ জুন, রাজ্যসভার নির্বাচনে এরাই হতে চলেছেন নির্ধারক ফ্যাক্টর।

রাজস্থানে 'রিসর্ট বন্দী' বিধায়কেরা, রাজ্যসভা ভোটে ঘোড়া কেনাবেচার আশঙ্কায় কংগ্রেস!
কোভিড আক্রান্ত সোনিয়া গান্ধী, তবে ৮ জুন ইডি-র দপ্তরে হাজিরা দেবেন, জানাল কংগ্রেস

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in