২৪ মে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক আশা কর্মীদের

করোনা মহামারির মধ্যে আশা কর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করে চলেছেন
২৪ মে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক আশা কর্মীদের
ছবি- ন্যাশনাল হেরাল্ড

একাধিক দাবিতে আগামী ২৪ মে দেশজুড়ে একদিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে আশা কর্মীরা। করোনা মহামারির মধ্যে লাখো আশা কর্মী নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করে গিয়েছে প্রথমসারির যোদ্ধা হিসেবে। গত বছরও ২ দিনে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন আশা কর্মীরা নিজেদের দাবিতে। কিন্তু সেই দাবি পূরণ এখনও হয়নি। আর তাই ফের একবার দেশজুড়ে একদিনের কর্মবিরতিতে যেতে চলেছেন তারা।

মহামারির শুরু হওয়ার সময় থেকে আশা কর্মীরা কোভিড রোগীদের খুঁজে বের করার কাজ করে চলেছেন। সঠিক উপায়ে পরীক্ষা করানো, ভ্যাকসিনেন সুবিধা নেওয়ার কথা দরজায় দরজায় গিয়ে প্রচার করে চলেছেন। বর্তমান সময়ে এই কাজ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এতকিছুর পরও তাঁরা এখনও কাগজে কলমে "স্বেচ্ছাসেবক" হিসাবেই রয়ে গিয়েছেন, কর্মীর মর্যাদা পাননি। যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন সিটুর সর্বভারতীয় সচিব এআর সিন্ধু।

গতবছর আশা কর্মীদের ১ হাজার টাকা করে মাসিক ইনসেন্টিভ ঘোষণা করেছিল- অভিযোগ, বহুরাজ্যে সেই ইনসেন্টিভ বাকি থাকছে মাসের পর মাস। শুধু তাই নয়, এই ডামাডোলের বাজারে মাইনেও অনিয়মিত পাচ্ছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যান প্যাকেজ প্রকল্পে তাঁদের ৫০ লাখ পর্যন্ত জীবনবীমার আওয়াতায় আনা হয়। কিন্তু ৮০ জনের বেশি আশাকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও জীবনবীমার টাকা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন আশাকর্মীদের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব।

আশা কর্মীদের অল ইন্ডিয়া কোঅর্ডিনেশন কমিটির এক কর্মী সুরেখা জানিয়েছেন, ছোটো সহকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, চিফ মেডিক্যাল হেলথ অফিসগুলোতে প্রতিবাদও জানানো হবে। কোভিডের বিষয়টি মাথায় রেখে এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ যতটা সম্ভব ছোটো আকারে করা হবে। গ্রামীণ এলাকায় কোনও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় থাকলে প্রথমেই এগিয়ে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এই আশাকর্মীরা।

মূলত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, মহিলা, শিশুদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তারাই সাহায্য করেন। আশা কর্মীরা না থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় সাহায্য পৌঁছনো অসম্ভব ছিল। জাতীয় গ্রামীন স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে ২০০৫ সালে এই আশা গঠন করা হয়। মূলত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা প্রচার করাই কাজ এইসব স্বাস্থ্যকর্মীদের। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার সঠিকভাবে ব্যবহারের পথও দেখিয়েছেন তারা। দেশজুড়ে প্রায় ১০ লাখ আশা কর্মী কাজ করেন।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in