রাত্তিরে আমাদের পোকা মারার ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হত। আমরা অচৈতন্য হয়ে পড়তাম। সকালে ঘুম ভাঙলে দেখতাম গায়ে কোনও জামাকাপড় নেই এবং সারা শরীরে যন্ত্রণা। এভাবেই দিনের পর দিন আমাদের ধর্ষণ করা হত। ভয়ঙ্কর এই বিবরণ দিয়েছেন বিহারের মুজফফরপুরের সরকার পরিচালিত হোমের নাবালিকারা। দিনের পর দিন এই একই ঘটনা চলতো বলেও তাঁরা জানিয়েছে।

উদ্ধার করা সমস্ত নাবালিকার ডাক্তারি পরীক্ষার পর জানা গেছে তাঁরা প্রত্যেককেই ধর্ষণ করা হয়েছে। এই নাবালিকারা দুই ব্যাক্তির নাম করেছে। যাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

ইতিমধ্যেই ওই হোমটিকে কালো তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে ওই হোমের ৪২ জন নাবালিকার মধ্যে ৩৪ জনই যৌন নিপীড়নের শিকার। এঁদের প্রত্যেককেই অন্য হোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

নাবালিকারা জানিয়েছে হোমের পরিচালক রোশন প্রতিদিন হোমে আসতো। হোমের পরিচারিকা চন্দা এঁদের রোশনের কাছে নিয়ে যেত। রোশন এই নাবালিকাদের ট্যাবলেট, ওষুধ, মদ খাইয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করতো এবং এই কথা বাইরে কাউকে বললে মেরে ফেলার হুমকিও দিতো।

উদ্ধার হওয়া নাবালিকারা আরও জানিয়েছে, স্বল্প বসনে রোশন ওই নাবালিকাদের তাঁর এবং তাঁর বন্ধুদের সামনে নাচতে বাধ্য করতো। তাঁরা নাচতে অস্বীকার করলে তাদের মারধোর করা হত।

টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্স-এর এক সমীক্ষায় প্রথম এই ঘটনা সামনে আসে। এরপর বিহারের বিরোধী দলনেতা এক ট্যুইট বার্তায় এক ঘটনা জনসমক্ষে আনেন। তেজস্বী যাদব জানান – এই ঘটনায় বহু প্রভাবশালী জড়িয়ে আছে এবং সরকার তাদের আড়াল করার চেষ্টা করছে।

প্রথম দিকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করলেও শেষমেশ বিরোধীদের প্রবল চাপের মুখে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।  


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন