কেরালাবাসীরা এখনও কেভিনকে মনে রেখেছে। তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো কেরালাবাসীকে। তাঁর অপরাধ ছিল ভালোবেসে তথাকথিত উচ্চবর্ণের মেয়েকে বিয়ে করা। এই অপরাধে খুন হতে হয় তাকে। এবার কেরলাবাসীকে চিন্তায় ফেলেছে আর যুগল–এর পরিস্থিতি।

হরিসন হ্যারিস, নামে এক ২০ বছরের খ্রিস্টান যুবক ফেসবুক লাইভে এসে জানালো তাদের দুর্বিষহ পরিস্থিতির কথা। পেশায় ফটোগ্রাফার ২০ বছরের এই যুবক ভালোবেসে বিয়ে করেছে সুহানা নামে এক ১৯ বছরের মুসলিম কিশোরীকে। আর তারপরেই শুরু হয়েছে সুহানার পরিবারের তরফ থেকে হুমকি। জড়িয়েছে রাজনৈতিক দলের নামও। এস ডি পি আই নামক এক কট্টরপন্থী ইস্লামিক  সংগঠনের নেতা রোজ খুন করার হুমকি দিচ্ছে হরিসনকে।

ফেসবুক লাইভে এসে হরিসন জানিয়েছে- “আমি যেকোন সময় খুন হতে পারি। ওরা আমার বাবা মাকে খুন করার হুমকি দিচ্ছে।আমার অবস্থা কেভিনের মতোই হতে পারে”।ঐ ভিডিওতে সে আরো বলে আরো বলে- “আমি বাধ্য হয়ে এই ভিডিও করছি, এছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই। আমি চাই না কেভিনের মত আমিও থেমে যাই। সুহানার সাথে আমি সারাজীবন থাকতে চাই। দয়া করে আমাদেরকে বাঁচতে দিন”।

প্রায় পাঁচদিন ধরে হ্যারিস ও সুহানা নিখোঁজ হয়। উভয় পরিবারই থানায় নিখোঁজ ডাইরি করে। কিছুদিন পর এই যুগল ফেসবুকে তাদের বিয়ের ছবি আপলোড করে। আর তারপর থেকেই খুনের হুমকি আসতে শুরু করে।

সুহানাও তাঁর পরিবারের কাছে আবেদন করেছে- “আমি মনে করি না ভালোবাসার কোন জাত ধর্ম হয়। কাউকে ভালবাসতে গেলে এগুলো প্রয়োজন আছে বলেও মনে হয় না। আমি এখনও মুসলিমই আছি। হ্যরিস আমাকে ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা বলার প্রয়োজনবোধ পর্যন্ত করেনি। আর এই জন্যই তোমরা আমাদের মারতে চাও? আমাদের বাঁচতে দাও। আমি কেভিনের সাথে বাঁচতে চাই”।

কেরালার আট্টিঙ্গল জেলার পুলিশের কথায় নিখোঁজ ডাইরি যেহেতু হয়েছে তাই আইন অনুযায়ী সুহানাকে প্রথম উদ্ধার করা হবে। তারপর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উভয়ের বয়ান নিয়ে তাদের মুক্ত করা হবে।

(হ্যারিসন এর ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন