জেল থেকে ছাড়া পেলেন ডঃ কাফিল খান। গভীর রাতে মথুরা জেল মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে। রাতেই সংবাদমাধ্যমে একথা জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী ইরফান গাজী।

 গতকাল এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে (NSA) আনা অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে আদালত বলেছিল, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ বিরোধী বক্তৃতা দেওয়ার জন‍্য এনএসএ'র অধীনে ডাঃ কাফিল খানকে আটকে রাখা সম্পূর্ণ "বেআইনি"। হাইকোর্টের নির্দেশে মধ‍্যরাতে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে।

কাফিল খানের আইনজীবী সংবাদমাধ্যমে জানান, "মঙ্গলবার রাত ১১টার সময় মথুরা জেল কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায় যে কাফিল খানকে মুক্তি দেওয়া হবে। এরপর মধ‍্যরাত নাগাদ তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।"

যদিও মঙ্গলবারই কাফিল খানের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে মুক্তি দেওয়া না হলে আদালত অবমাননা অভিযোগে ফের মামলা দায়ের করা হবে। খানের ভাই আদিল খানের দাবি, মথুরা জেল কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবারকে জানিয়েছিল জেলা ম‍্যাজিস্ট্রেট অনুমতি না দিলে কাফিল খানকে মুক্তি দেবে না তারা।

ছেলের মুক্তি পাওয়ার খবরে খুশি হয়ে তাঁর মা নুজহাত পারভীন বলেন, "অনেক দিন পর আমি আবার আমার ছেলেকে দেখতে এবং স্পর্শ করতে পারবো। আমার ছেলে একজন ভাল ব্যক্তি। ও কখনই দেশ বা সমাজের বিরুদ্ধে নয়।"

গত বছর ১০ ডিসেম্বর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া সিএএ বিরোধী এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছিলেন কাফিল খান। তাঁর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগ এনে আলিগড় সিভিল লাইনস থানায় ভারতীয় দন্ডবিধির ১৩৫-এ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি মুম্বাই এয়ারপোর্ট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তখন থেকে মথুরা জেলে বন্দি রয়েছেন তিনি।

এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি কাফিল খানের জামিন মঞ্জুর করেছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। কিন্তু মথুরা জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে তত্‍ক্ষণাত্‍ মুক্তি দেয়নি। তখন হাইকোর্টের আদেশ অবমাননার দাবিতে আলিগড় আদালতে ফের মামলা দায়ের করে ডাক্তারের পরিবার। সেই মামলায় ১৩ ফেব্রুয়ারি নতুন করে রিলিজ অর্ডার দেয় আদালত। কিন্তু মুক্তির আগেই কাফিল খানের বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইন প্রয়োগ করে তাঁকে জেলবন্দি করেছিল কর্তৃপক্ষ।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন