১৯৩৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বীরভূমের কীর্ণাহার শহরের কাছে মিরাটিতে জন্মগ্রহণ করেন ‌প্রণব মুখার্জী। বাবা ছিলেন বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী কামদাকিঙ্কর মুখার্জি ও মা রাজলক্ষ্মী দেবী। তাঁর গোটা ছেলেবেলাটা কেটে কেটেছে বীরভূমে। তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত সিউড়ির বিদ‍্যাসাগর কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৫৭ সালে শুভ্রা মুখার্জির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের দূই পুত্র ও এক কন‍্যা রয়েছেন।

যদিও অধ্যাপক হিসেবে তিনি নিজের কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ ছয় দশক ধরে সক্রিয়ভাবে ভারতীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন প্রণব মুখার্জি। এর মধ্যে পাঁচ দশক তিনি সরাসরি সংসদের সাথে যুক্ত ছিলেন। বাবার দেখাদেখি ছোটবেলা থেকেই কংগ্রেসের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালে কংগ্রেসের টিকিটেই রাজ‍্যসভার সদস‍্য হিসেবে প্রথমে সংসদে প্রবেশ করেন। এরপর ১৯৭৫, ১৯৮১, ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সালে রাজ‍্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন।

ধীরে ধীরে পদোন্নতি ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় প্রবেশ করেন প্রণব মুখার্জি। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ইন্দিরা গান্ধীর মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর দু'বছর পর ১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধীর সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস হিসেবে নতুন একটি দল তৈরি করেন। কিন্তু ১৯৮৯ সালে পুনরায় কংগ্রেসে যোগ দেন।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন প্রণব মুখার্জি। এরপর একাধিক মন্ত্রীর দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেছেন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিদেশমন্ত্রী, ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ছিলেন তিনি। এরপর ২০১২ সালের জুলাই মাসে ভারতের ১৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি।

দীর্ঘ এই রাজনৈতিক জীবনে একাধিক সম্মান ও পুরষ্কার পেয়েছেন প্রণব মুখার্জি। ১৯৮৪ সালে ইউরোমানি পত্রিকার সমীক্ষায় তাঁকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রীর সম্মান দেওয়া হয়েছিল। ২০০৮ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হন তিনি। ২০১২ সালে অসম বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বেশ্বারায়া প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডি.লিট ডিগ্রি দেন। ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডক্টর অব ল ডিগ্রি দেন। ওই বছরই "বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা" পান তিনি। ২০১৯ সালে "ভারতরত্ন" পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তাঁকে।

নিজের কর্মজীবনে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য - বিয়ন্ড সারভাইভাল, মিডটার্ম পোল, এমার্জিং ডাইমেনশন অফ ইন্ডিয়ান ইকোনমি।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন