অযোধ‍্যায় রাম মন্দিরের ভূমিপুজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল আসামের সোনিতপুর। সেই ঘটানায় ডিজিপিকে তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেয়াল। ইতিমধ্যেই প্রচুর সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং উত্তপ্ত এলাকাগুলিতে ফ্ল্যাগ মার্চ করছেন তাঁরা। বেশ কয়েকটি এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউও ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান উপলক্ষে সোনিতপুরের বিভিন্ন জায়গায় বাইক মিছিল করে বজরং দলের কর্মীরা। সেই বাইক মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম বরগাঁর ভোরা সিঙ্গরি ও গোরুদাবা গ্রাম। সংঘর্ষ বাঁধে গ্রামবাসী ও বজরং দলের কর্মীদের সাথে। ভোরা সিঙ্গরি গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামের শিব মন্দিরের কাছে তারস্বরে মাইক বাজিয়ে ফূর্তি করছিল বজরং দলের কর্মীরা। গ্রামবাসীরা বাধা দিলেই সংঘর্ষ বাঁধে। হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের আরো কয়েকটি জায়গায়। যার জেরে সোনিতপুরের থেলিমারা ও দেখিয়াজুলি থানায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। জেলা প্রশাসনের অনুরোধে থিলামারা থানার বেশ কয়েকটি জায়গায় এখনও ফ্ল‍্যাগ মার্চ চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

গুয়াহাটিতে পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনেয়াল জানিয়েছেন, "ডিজিপিকে এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সবাইকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন করা হচ্ছে।" সোনিতপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুমল মেহতা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, "আমরা ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু'জনকে আটক করেছি। গত রাত থেকে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

অ‍্যাডিশনাল ডিজিপি (আইনশৃঙ্খলা) জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, "প্রাথমিক তদন্তে আমাদের মনে হচ্ছে, ভোরা সিঙ্গরিতে প্রথম সংঘর্ষ শুরু হয়, তারপর গোরুদাবাতে হয়। থিলামারা থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সময়কার কোনো ভিডিও পাওয়া যায় কিনা তার চেষ্টা করছি আমরা।" বাইক বাহিনীর কাছে মিছিল করার কোন অনুমতি ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন