কোভিড-১৯ লকডাউনের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন চাকরি খুইয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, সেইসময় সরকার কেবল তার নিজের লাভের কথা ভেবে যাচ্ছে। লাগাতার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে কেন্দ্র সরকারকে এভাবেই আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত "যুক্তিহীন"।

কংগ্রেস সভানেত্রী চিঠিতে লিখেছেন, "কোভিড-১৯ এর অর্থনৈতিক প্রভাব যখন লক্ষ লক্ষ মানুষের চাকরি, জীবন-জীবিকা কেড়ে নিয়েছে, মধ‍্যবিত্তের আয় একধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোও মুখ থুবড়ে পড়েছে, সেইসময় সরকার এরকম দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছে, তার কোনো যুক্তি আমি পাচ্ছি না। এমনকি কৃষকদেরও খারিফ মৌসুমের ফসল বপনের জন্য লড়াই চালাতে হচ্ছে এখন।‌ গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক দাম আনুমানিক নয় শতাংশ কমেছে (গত কয়েক মাস ধরে অপরিশোধিত তেলের দামে ধস আসার পরে)। দেশবাসী যখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, সরকার তখন তার লাভের কথা চিন্তা করছে। জনগণের কষ্ট কমানোর জন্য কিছু করছে না সরকার।"

 

তিনি বলেছেন, সরকার তার "পরামর্শদাতাদের" কথা অনুযায়ী চলে এই সঙ্কটের মুহূর্তেও অতিরিক্ত ২,৬০,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করার পথে হাঁটছে। মানুষের ওপর এভাবে অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে মানুষকে কষ্ট দিয়ে রাজস্ব আদায় ন‍্যায়সঙ্গত বা সঠিক নয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাশুল গুনছ সাধারণ মানুষ।

তিনি লেখেন, গত ৬ বছর‌ ধরে জ্বালানি তেলের দাম ঐতিহাসিকভাবে কম ছিল। তা সত্ত্বেও এই ৬ বছরে ১২ বার জ্বালানি তেলের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে এই সরকার। পেট্রোলের ‌দামের ওপর ২৫৮ শতাংশ ও ডিজেলের দামের ওপর ৮২০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে পেট্রোল ও ডিজেলের আবগারি সংগ্রহ থেকে ১৮,০০,০০০ কোটি টাকা লাভ করেছে কেন্দ্র সরকার।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও লেখেন, "যদি দেশবাসীকে সত‍্যিই আত্মনির্ভর করতে চান, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা সত্ত্বেও ভারতে এভাবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দেশবাসীর অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করবেন না। সরকারি রাজকোষ কাজে লাগিয়ে এই কঠিন সময়ে দরিদ্রদের অর্থ সাহায্য করুন।"

এর‌ আগে পেট্রোল-ডিজেলের‌ মূল‍্যবৃদ্ধি নিয়ে ট‍্যুইটারে কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। ট‍্যুইটারে তিনি লেখেন, "তীব্র যন্ত্রণায় থাকা মানুষের ওপর এ এক ক্ষমাহীন পীড়ন। সরকার হয়তো ভাবছে এভাবে আরও টাকা উপার্জন করা যাবে। কিন্তু এতে অর্থনীতি ধ্বংস হবে। যখন অপরিশোধিত তেলের সর্বনিম্ন স্তরে আছে তখন কেন এই দাম বৃদ্ধি? মানুষের ওপর ডাকাতি বন্ধ করুন। তাঁদের হাতে টাকা দিন।”

 


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন