দেশে লকডাউন মধ্যবর্তী সময়ে কর্মচারীদের বেতন না দিলেও নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। আগামী ১২ জুন পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি এস কে কাউল এবং বিচারপতি এম আর শাহ-র বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেছেন। আগামী তিন দিনের মধ্যে সব পক্ষই এই বিষয়ে আদালতের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিতে পারবে।

গত ২৯ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলো কিছু সংস্থা। যে নির্দেশে জানানো হয়েছিলো, লকডাউন চলাকালীন সময়ে কোনো সংস্থা কোনো কর্মচারীর বেতন কাটতে পারবে না। যদিও গত ১৮ মে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এদিন আদালতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল জানিয়েছেন – শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার কথা ভেবে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট অনুসারে কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্দেশ দিয়েছিলো।

তিনি আরও বলেন – বহু মানুষ ঘরে ফিরতে চাইছিলেন। সরকার চাইছিলো উৎপাদন চালু রাখতে। তাই কর্মচারীদের কথা ভেবেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো।

বিচারপতিদের বেঞ্চ জানান – বিভিন্ন সংস্থা বাধ্য হয়েছে কাজকর্ম বন্ধ রাখতে। সেই অবস্থায় তাঁদের সম্পূর্ণ মজুরি দিতে বলা কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখা দরকার। এই সময়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের জন্য আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো দরকার।

বিচারপতি এস কে কাউল জানান – ১০০ শতাংশ মজুরি দিতে হবে, না দিতে পারবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে – সরকারের এরকম বলার অধিকার আছে কি? কোনো কর্মীই যেন বেতনহীন না থাকে সেটা দেখা কর্তব্য, কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁদের কাছে বেতন দেবার নয় যথেষ্ট অর্থ নেই।

এক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন। আমরা সবকিছুই সংবাদমাধ্যম থেকে শুনছি। কিন্তু এইক্ষেত্রে বাস্তব সমাধান প্রয়োজন। এই ৫৪ দিনের বেতন কীভাবে দেওয়া হবে তা নিয়ে নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে কর্মচারীদের আলোচনা করা দরকার।

 


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন