দেশের শ্রম আইন লঘু করতে চাইছে সরকার। বহু দেশের শ্রমিকের অনেক লড়াইয়ের পরে এই দিনে আট ঘন্টা কাজের সময় নির্ধারিত হয়েছে। আমাদের দেশ তা বাড়িয়ে ১২ ঘন্টা করতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বলছেন লকডাউন চলাকালীন কারো চাকরী যাবে না। বাস্তবে লকডাউনের এই ৫০ দিনের মধ্যেই ১৪ কোটি লোকের চাকরি চলে গেছে। তাঁরা বেকার হয়ে গেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে এক ভিডিও সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানান সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন - প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন শ্রমিকদের বেতন বা মজুরি কাটা যাবে না। বাস্তবে এটাও হচ্ছে। যে পুঁজিপতিরা শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে, তাদের পুরো বেতন দিচ্ছেন না, তারাই প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে বিশাল টাকা অনুদান দিচ্ছেন। অর্থাৎ শ্রমিকদের হকের টাকা এই তহবিলে দেওয়া হচ্ছে। আর শ্রমিকদের জীবন বরবাদ করে দেওয়া হচ্ছে। দেশের শ্রমিক-কৃষকরা অনেক লড়াই করে যে অধিকার আদায় করেছিলেন, সেই অধিকার তাদের থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তার ওপর ইউএপিএ আইনে মামলা দায়ের করছে সরকার।

এদিন অভিবাসী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ইয়েচুরি বলেন - প্রধানমন্ত্রী ৩১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিলেন রাস্তায় আর কোনো অভিবাসী শ্রমিক নেই। সবাইকে সরকার আশ্রয় ও খাবার দিয়েছে। ওই দিনের পর থেকে আজ ৪২ দিন হয়ে গেছে। আমাদের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ভাইরা আজও হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন, অনাহারে রয়েছেন। কোনো সরকার তাদের কথা ভাবছে না। বাড়ি ফিরতে গিয়ে বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আজ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করুন, যেই শ্রমিকরা এখনও রাস্তায় রয়েছেন তাদের সেখান থেকে বিনাখরচে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।

এদিন তিনি বলেন - প্রধানমন্ত্রী আজ রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। তাঁর কাছে আমরা অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয় ছাড়াও আরও দুটি দাবি জানাচ্ছি। আমাদের দ্বিতীয় দাবি, যারা বেকার হয়ে গেছেন, যাদের হাতে টাকা নেই, থাকার জায়গা নেই, যে পরিবারগুলো ইনকাম ট‍্যাক্স দেয়না, সেই সব পরিবারকে আগামী তিনমাস পর্যন্ত প্রত‍্যেক মাসে ৭,৫০০ টাকা করে দিক সরকার। আর তৃতীয় দাবি, প্রত‍্যেক দরিদ্র মানুষকে আগামী ছয় মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০ কেজি করে খাদ্যশস্য দেওয়া হোক। সিপিআইএমের পক্ষ থেকে এই তিনটি দাবি করা হয়েছে। আজ রাত আটটায় আমাদের করা এই তিনটি দাবির বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা করুন প্রধানমন্ত্রী।

সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এদিন আরও বলেন –গতকাল মুখ‍্যমন্ত্রীদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করার সময় প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন COVID-19 পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের পদক্ষেপ গোটা বিশ্বে প্রশংসনীয়। অথচ পরিসংখ্যান বলছে ভারতে COVID-19 টেস্টের সংখ‍্যা অন‍্যান‍্য দেশের তুলনায় অনেক কম। করোনা যুদ্ধে সামনের সারিতে থাকা স্বাস্থ‍্যকর্মীরা এই মহামারীর শিকার হচ্ছেন, এঁদের অনেকেই এখনও উপযুক্ত সুরক্ষা গিয়ার ছাড়াই করোনা রোগীদের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। প্রথম যেদিন লকডাউন শুরু হয়েছিল সেদিন দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১০, আজ লকডাউনের ৪৯ তম দিনে সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,৩০০। আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাহলে ভালো কী হয়েছে? আজ দেশের যা পরিস্থিতি, এর থেকে অনেক ভালো পরিস্থিতিতে দেশ থাকতো যদি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে এই সমস্ত কিছুর পরিকল্পনা নেওয়া হতো। দেশের প্রশংসা যদি কোথাও হয়ে থাকে তা কেবলমাত্র কেরলের জন্য হয়েছে। যেভাবে ওখানের বামপন্থী সরকার COVID-19 পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে তা প্রশংসিত হয়েছে গোটা বিশ্বজুড়ে। কেরল সরকার যদি এই মহামারী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে আমাদের দেশ পারলো না কেন? এই প্রশ্নের জবাব চাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

করোনা মহামারী প্রসঙ্গে সীতারাম ইয়েচুরি জানান - আমাদের এখন একটাই কর্তব্য একজোট হয়ে এই মহামারীর মোকাবিলা করা। আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত‍্যুর সংখ‍্যা কমাতে হবে। এই কর্তব্য থেকে দৃষ্টি সরে গেলে তা দেশের পক্ষে ক্ষতিকর। কিন্তু আফশোসের কথা হলো সেটাই করছে কেন্দ্র সরকার। মহামারীর মোকাবিলার নামে দেশের রাজনীতিতে কেন্দ্রীকরণ চলছে। কেন্দ্র সরকার প্রতিদন নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, এবং রাজ‍্যগুলিকে তা পালন করার নির্দেশ দিচ্ছে। রাজ‍্য সরকারের কাছে পয়সা নেই, বরাদ্দ বকেয়া তো তারা পাচ্ছেই না, এমনকি করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নিজের নামের ত্রাণ তহবিলে যে হাজার হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছে সেই টাকাও দিচ্ছে না। সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে? সেগুলো রাজ‍্যকে দেওয়া হোক।

 


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন