মুসলিম হওয়ায় একজন গর্ভবতী মহিলাকে ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ উঠলো রাজস্থানের একটি সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অন‍্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে অ‍্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই সন্তান প্রসব করেন ওই মহিলা। তবে শিশুটি বাঁচেনি।

মহিলার স্বামী ইরফান খানের অভিযোগ, "আমার স্ত্রী গর্ভবতী ছিল। ওর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল। সিক্রি থেকে জেলা সদরে জানানা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল তাঁকে।‌ কিন্তু সেখানের ডাক্তাররা বললেন আমাদের জয়পুর যাওয়া উচিত কারণ আমারা মুসলিম। আমি যখন আমার স্ত্রীকে অ‍্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন সে আমাদের সন্তানের জন্ম দেয় কিন্তু শিশুটি মারা যায়। আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য আমি প্রশাসনকে দায়ী করি।"

এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানানা হাসপাতালের অধ‍্যক্ষ ডাঃ রূপেন্দ্র ঝা বলেছেন, "একজন মহিলা অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় প্রসবের জন্য এসেছিলেন হাসপাতালে। তাকে জয়পুর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল।‌ কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে তার তদন্ত করা হবে।"

 

রাজ‍্যের পর্যটন মন্ত্রী বিশ্বেন্দ্র সিং যিনি বর্তমানে ভরতপুরের এই সরকারি হাসপাতালের ওবিএস এবং গাইনো বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, নিজের ট‍্যুইটারে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে‌ একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, "ভরতপুরের জানানা হাসপাতালে একজন মুসলিম গর্ভবতী মহিলার চিকিৎসা করতে অস্বীকার করা হয়েছিল এবং ধর্মের কারণে তাঁকে জয়পুরে যেতে বলা হয়েছিল। ভরতপুরের বিধায়ক রাজ‍্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ভরতপুর হাসপাতালেরই এই অবস্থা। লজ্জাজনক।"

মন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, "এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। এটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ এবং সরকার এই বিষয়গুলিতে অত‍্যন্ত সংবেদনশীল।" যেই ডাক্তার ওই মহিলাকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করেছিলেন তাঁর নাম মনীত ওয়ালিয়া বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

 


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন