দীর্ঘ পথ হেঁটে বা অন‍্য কোনো উপায়ে অভিবাসী শ্রমিকরা যে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছে, তা আটকাতে হবে। এই মুহূর্তে তারা যেখানে আছে সেখান থেকে তাদের শেল্টার হোমে নিয়ে গিয়ে খাবার ও ওষুধ দিতে হবে। এবং অতি অবশ্যই ধর্মীয় গুরুর সাহায‍্যে তাদের কাউন্সেলিং করাতে হবে। কেন্দ্র সরকারকে আজ এই নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।

 

কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে আদালতে উপস্থিত থাকা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতাকে প্রধান বিচারপতি অরবিন্দ বোবদে বলেন, "আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে যাদের যাতায়াত আপনি বন্ধ করছেন, তারা যেন প্রত‍্যেকে খাদ‍্য, জল, আশ্রয়, পুষ্টি এবং চিকিৎসা সেবা পায়।"

COVID-19 মহামারী রুখতে দেশে ২১ দিনের লকডাউনের জেরে আকস্মিকভাবে কাজ বা আশ্রয় হারানোর ফলে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অভিবাসী শ্রমিকদের মনে যে আতঙ্ক-ভয় সৃষ্টি হয়েছে, তা শান্ত করতে হবে কেন্দ্র সরকারকে, এই নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

আচমকা লকডাউনে দেশজুড়ে সমস্ত পরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবার কারণে এই শ্রমিকরা অধিকাংশই তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে যেতে পারেননি। বিনা খাবার, বিনা জল, বিনা পরিবহন, বিনা ওষুধ, বিনা ছাউনিতে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন তারা। তাদের এই দুর্দশার কথা তুলে ধরে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী অলোক শ্রীবাস্তব। এই মামলায় আজ কেন্দ্র সরকারের জবাব তলব করেছিল আদালত।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জবাবে সলিসিটর তুষার মেহেতা আজ জানান, "স্বরাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন আজ সকাল ১১টা পর্যন্ত রাস্তায় কোনো অভিবাসী শ্রমিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। তাদের প্রত‍্যেককেই নিকটতম শেল্টার হোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।"

কেন্দ্র সরকারকে অবিলম্বে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সমস্ত ধর্মের ধর্মীয় গুরুকে এনে  অভিবাসী শ্রমিকদের কাউন্সেলিং করার নির্দেশ দিয়ে আদালত বলে, "আমরা আপনাকে অবহিত করছি যে ভাইরাসের চেয়েও বেশি জীবন ধ্বংস করবে এই আতঙ্ক। এই সময় পরামর্শদাতার প্রয়োজন।‌ ভজন, কীর্তন, নমাজ যা খুশি করুন, শুধু মনে রাখবেন এই মানুষগুলোকে শক্তি যোগাতে হবে।"

এর উত্তরে তুষার মেহেতা জানান, "২৪ ঘন্টার মধ্যে সমস্ত প্রশিক্ষিত কাউন্সিলর ও ধর্মীয় গুরুদের আনার জন্য বিবৃতি জারি করছি আমরা। অভিবাসী শ্রমিকদের ভরসা দেওয়ার জন্য সমস্ত ধর্মীয় গুরু, মৌলবী, সাধুদের আনব আমরা।"

 


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন