টেলিকম সংস্থাগুলো থেকে বিশাল বকেয়া আদায়ের ক্ষেত্রে গড়িমসি করায় কেন্দ্রকে তীব্র ভর্ৎসনা করলো দেশের শীর্ষ আদালত। অ‍্যাডজাস্টেড গ্রস রেভিনিউ বা এজিআরের বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য টেলিকম সংস্থাগুলোকে নির্দিষ্ট সময় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সরকার এই টাকা উদ্ধারে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে উল্টে এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আদালতে আবেদন করে। আজ এই আবেদনের শুনানিতে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, "আদালতের আদেশকে উপেক্ষা করা হয়েছে।"

কেন্দ্র সরকার তার আবেদনে জানিয়েছিল, এজিআরের বকেয়া পরিশোধের জন্য টেলিকম ‌সংস্থাগুলিকে ২০ বছর বা তারও কিছু সময় দেওয়া হোক।‌‌ অথবা কিস্তির মাধ্যমে এই বকেয়া পরিশোধের অনুমতি দেওয়া হোক। যে সংস্থাগুলির টাকা বাকি রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না কারণ সারা দেশে কোটি কোটি গ্রাহককে পরিষেবা দেয় ওই সংস্থাগুলি।

এই আবেদনের শুনানিতে‌ ক্ষুব্ধ বিচারপতিরা কেন্দ্র সরকারকে ভর্ৎসনা করে বলেন, টেলি সংস্থাগুলির এজিআরের বকেয়া অর্থের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এটা জনগণের টাকা। জনগণের টাকা কেউ পকেটে ঢোকাচ্ছে অথচ সরকার বলছে সময়সীমা বাড়ানো হোক। কেন?

কেন্দ্র সরকারের পাশাপাশি টেলি সংস্থাগুলিকেও তিরস্কার করে আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, "টেলি সংস্থাগুলি কী নিজেদের পৃথিবীর মধ‍্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করে? যদি কেউ মনে করে তারা পৃথিবীর মধ্যে শক্তিশালী এবং তারা আমাদের প্রভাবিত করতে পারবে তাহলে তারা ভুল ভাবছে।"

বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন, "আমরা এটি সহ‍্য করবো না। সমস্ত কোম্পানিগুলো সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান‍্য করছে। ওরা আমাদের ফাঁকি দিতে চাইছে।‌ প্রয়োজনে আমরা সমস্ত টেলিকম সংস্থার ম‍্যানেজিং ডিরেক্টরদের তলব করবো। এখান থেকেই তাঁদের জেলে পাঠাবো আমরা।"


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন