সংসদে মিথ‍্যে তথ‍্য পেশ করার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করলেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। এদিন নিজের ট‍্যুইটারে তিনি লেখেন, "একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথ‍্যের ভিত্তিতে যে যুক্তি দিয়েছিলেন, সরকার বলছে সেরকম কোনো তথ‍্য নেই তাদের কাছে। মানুষের সাথে প্রতারণা ও মানুষকে বোকা বানানোর জন্য নকল এই তথ্য তৈরি করা হয়েছিল, তা এখন পরিষ্কার।"

প্রসঙ্গত, প্রায় তিনমাস আগে সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে জানিয়েছিলেন, গত পাঁচ বছরে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা ৫৬৬ জন মুসলিমকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবি অস্বীকার করছে খোদ কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক তথ‍্য সংরক্ষণ করে না ভারত সরকার। রাজ্যসভায় একথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই।

কেরলের সিপিআই সদস্য কে সোমপরাসাদের করা ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদান সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাজ‍্যসভায় জানান, "নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৫ ও ৬ নম্বর ধারা মেনে যে সমস্ত ব‍্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে তাঁদের রেকর্ড ওই আইনে উল্লেখিত বিধি অনুসারে সংরক্ষণ করা হয়। ধর্মের ভিত্তিতে এই তথ‍্য রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না।"

 

তিনি আরও জানান, ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার থেকে ভারতে আগত ১৮,৯৯৯ জন মানুষকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫,০৩৬ জন মানুষ এসেছেন বাংলাদেশ থেকে। বাকিদের মধ্যে ২,৯৩৫ জন পাকিস্তানী, ৯১৪ জন আফগানী। ১১৩ জন এসেছেন শ্রীলঙ্কা থেকে এবং একজন মায়ানমারের বাসিন্দা ছিলেন।

গত বছর ১১ই ডিসেম্বর রাজ‍্যসভায় নাগরিকত্ব আইন পেশের সময় বিতর্ক চলাকালীন অমিত শাহ বলেছিলেন, "এই আইনে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। গত পাঁচ ৫৬৬ জনের বেশি মুসলিমকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে।" পরবর্তীকালে এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে এই সংখ্যাটা ৬০০ বলে দাবি করেছিলেন অমিত শাহ।

 


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন