প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরমের গ্রেফতারির পর এবার কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা ডি কে শিবকুমারকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) আধিকারিকরা। গ্রেফতারির আগে টানা চারদিন ধরে জেরাপর্ব চালায় ইডি। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের এই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ডি কে শিবকুমারের গ্রেফতারের পরে ফের একবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছে কংগ্রেস। ডি শিবকুমারের গ্রেপ্তারিতে বুধবার সকাল থেকে উত্তপ্ত কর্ণাটকের বিস্তীর্ণ অংশ। বহু জায়গায় বন্ধ স্কুল কলেজ। বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে একাধিক জায়গায়। বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ।

শুক্রবার থেকেই শিবকুমারকে টানা জেরা করছিলেন ইডি আধিকারিকরা। ইডির জেরার মুখোমুখি হওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে ‘কংগ্রেস নেতা’ বলেছিলেন, ‘আমি কোনও অপরাধ করিনি। ধর্ষণ করিনি, কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি। তাই আমার ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।’ তবে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, শিবকুমারকে যথেষ্টই ভয় পাচ্ছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। কন্নড় রাজনীতির সেরা রণনীতিকারকে বেশিদিন বাইরে রাখলে দাক্ষিণাত্যের ক্ষমতা যে হাতছাড়া হতে পারে, সেই শঙ্কাতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ‘ব্যবহার’ করে আপাতত কিছুদিনের জন্য শ্রীঘরে পাঠালেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা।

বরাবরই কংগ্রেসের ‘পরিত্রাতার’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন কন্নড় রাজনীতির স্ট্রংম্যান হিসেবে পরিচিত ডি কে শিবকুমার। ২০১৮ সালের অগস্ট মাসে গুজরাটের রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় থেকেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে দ্বৈরথে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধির ব্যক্তিগত সচিব আহমেদ পটেলের জয় আটকাতে যখন কংগ্রেস বিধায়কদের ভাঙিয়ে এনে কিস্তিমাত করতে যাচ্ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি, তখন তাঁর বাড়া ভাতে কার্যত ছাই ফেলে দিয়েছিলেন শিবকুমার। কংগ্রেস বিধায়কদের উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে বেঙ্গালুরুর এক রিসর্টে ‘সুরক্ষিত’ রেখেছিলেন। ফলে আহমেদ পটেলকে হারানোর স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছিল অমিত শাহের কাছে।

দু’জনের দ্বৈরথের পরের পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছিল কর্নাটকের বিধানসভা ভোটের পরে। কর্নাটকে সংখ্যাগরিষ্ঠ না হয়েও বিজেপির ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা কার্যত শিবকুমারের কৌশলেই ব্যর্থ হয়েছিল। বিজেপির মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল কংগ্রেস-জেডিএস জোট।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেসের হয়ে বারবার ‘পরিত্রাতার’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়াতে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শিবকুমার। হাতেনাতেই ফল পেতে হয়েছিল তাঁকে। একাধিক বার তাঁর বাড়িতে আয়কর হানা হয়েছে। মায়ের নামে থাকা বেনামি সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে ইডি। আর্থিক প্রতারণা মামলায় গত শুক্রবারই কর্নাটকের হেভিওয়েট কংগ্রেস নেতাকে হাজিরার জন্য তলব করেছিল ইডি। তখনই গ্রেফতারির আশঙ্কা করেছিলেন শিবকুমার। গ্রেফতারির হাত থেকে বাঁচতে হাইকোর্টে আগাম জামিনেরও আর্জি জানিয়েছিলেন। সেই আর্জি খারিজ হতেই ইডি দফতরে জেরার মুখোমুখি হতে হাজির হন।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন