ত্রিপুরা পূর্ব লোকসভা আসনের ভোট পিছিয়ে দিলো নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল ১৮ এপ্রিল এই কেন্দ্রে নির্বাচন হবার কথা থাকলেও, তা বাতিল করে এই কেন্দ্রে নির্বাচন হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। মঙ্গলবার একথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সেখানে অবাধ ভোটের পরিস্থিতি নেই। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গত ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়া পশ্চিম ত্রিপুরা কেন্দ্রের নির্বাচন প্রসঙ্গে ত্রিপুরার মুখ্য নির্বাচনী অফিসার শ্রীরাম তরণীকান্তি জানিয়েছেন, সকলেই দেখেছে ১১ তারিখ কী হয়েছে। আমি নিজে বিভিন্ন জেলায় গেছি এবং ভিডিও দেখেছি। যা ঘটেছে তা ভারতের নির্বাচন কমিশনের আইনের পরিপন্থী। আমরা এইসব তথ্যাদি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা আশা করবো আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং আগামী ২৩ তারিখ ত্রিপুরা পূর্ব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভাবে ভোট করা যাবে।

গত সপ্তাহে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ৯১ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দফার নির্বাচনে বিজেপি শাসিত ত্রিপুরাতে ব‍্যপক সন্ত্রাসের কথা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের ১,৬৭৯টি আসনের মধ্যে ৪৬৪টি বুথে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়ে দিল্লি ও আগরতলাতে গতকাল বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিরোধী দল সিপিআইএম।

 

গত সোমবারই প্রথম দফার নির্বাচনে হিংসার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। হিংসার স্বপক্ষে একাধিক ছবি ও ভিডিও জমা দেওয়া হয়েছিলো নির্বাচনের কমিশনের কাছে।

সীতারাম ইয়েচুরি অভিযোগ করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন বামেদের কোনো অভিযোগ শুনছে না।  কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বিজেপি সরকারের সময়ে গণতন্ত্রকে হত‍্যা করা ও সাধারণ মানুষকে তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।"

আগরতলার একটি সভা থেকে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে ভারতের গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপরে রয়েছে। তিনি বলেন, "বামদলগুলি নির্বাচন কমিশনকে নির্দিষ্ট কিছু প্রমাণ অর্থাৎ অনেক ছবি ও ভিডিও দিয়েছে। যেগুলো প্রমাণ করে যে কিভাবে গত ১১ই এপ্রিলের নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছিল।"

ত্রিপুরার বাম জোটের আহ্বায়ক তথা পলিটব্যুরো সদস্য বিজন ধর বলেন, "১৯৫২ সালের প্রথম সংসদীয় নির্বাচন থেকে এরকম হাস‍্যকর ও হিংসাপূর্ণ নির্বাচন ত্রিপুরাবাসী কোনোদিন দেখেনি।" গত রবিবার বিজন ধর সহ পাঁচ প্রতিনিধির একটি দল CEO শ্রীরাম তারিনিকান্তির কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। CEO নির্বাচনে হওয়া সন্ত্রাসের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।

(গ্রিপুরা সিপিআই(এম) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

 


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন