বৃহস্পতিবারই প্রকাশিত হলো রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহার। জয়পুরে রাজস্থান কংগ্রেসের প্রধান শচীন পাইলট এই  ইস্তাহার প্রকাশ করলেন। উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট ও ইস্তাহার কমিটির চেয়ারম্যান হরিষ চৌধুরী। এবারের ইস্তাহারে কৃষক ও যুব সমাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইস্তাহার প্রকাশকালে শচীন পাইলট জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনগণের মতামতের ওপর নির্ভর করে এই ইস্তাহার তৈরী করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া মারফত দু লাখেরও বেশি পরামর্শ এসেছিল ইস্তাহারে উল্লেখিত বিষয়গুলি নিয়ে।

ইস্তাহারে কৃষকদের জন্য যে বিশেষ সুযোগ সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে সেগুলি হলো -- রাজস্থানে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে কৃষকদের সমস্ত কৃষিঋণ মকুব করে দেওয়া হবে। কৃষি উপকরণগুলিকে GST মুক্ত করা হবে। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর কৃষকদের পেনশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। রাজস্থানে নির্বাচনী প্রচারের সময় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীও ক্ষমতায় এলে ১০ দিনের মধ্যে কৃষিঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই ইস্তাহারে যুবদের কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কংগ্রেস। যে সমস্ত যুবক নিজেদের ব্যবসা চালু করতে চায়, তাদের ঋণ দেওয়া হবে। বেকার যুবকদের মাসিক ৩,৫০০ টাকার একটি বিশেষ ভাতা প্রদান করবে কংগ্রেস।

কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে মহিলাদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হবে। যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা রাজস্থানে বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে আসবে তাদের ভ্রমণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম পুনরায় পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে।

সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে বিশেষ এক প্রকার আইন প্রণয়ন করা হবে। শিল্পের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে যদি রাজস্থানে কংগ্রেস সরকার গড়ে।

এর আগে বিজেপির ইস্তাহার নিয়ে তীব্র বিদ্রুপ করেছিলেন শচীন পাইলট। তিনি বলেছিলেন, বিজেপির এবারের ইস্তাহার আগের নির্বাচনের ইস্তাহারের 'নকল'। আজ আবারও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন নবীন এই কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেছেন, "আগামী পাঁচ বছরে ৫০ লাখ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। কিন্তু যে ১৫ লাখ ব্যক্তি চাকরি পেয়েছে বলে দাবি করছে বিজেপি, তাদের নাম কেন প্রকাশ করতে পারছে না বিজেপি?"

আগামী ৭ই ডিসেম্বর ২০০ আসন বিশিষ্ট রাজস্থান বিধানসভার নির্বাচন ও ১১ই ডিসেম্বর ভোট গণনা।