গুজরাটে বসবাসকারী বিহার ও উত্তরপ্রদেশের জনগণের ওপর আক্রমণের প্রভাব এসে পড়লো এবার বারাণসীতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের এলাকা বারাণসীতে এই ঘটনার জেরে ধিকৃত হলেন প্রধানমন্ত্রী। বারাণসীর বহু এলাকায় বাড়ীর দেওয়ালে দেওয়ালে এখন 'গুজরাটি নরেন্দ্র মোদী, বারাণসী ছাড়ো' লেখা পোস্টার।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ মারফত জানা গিয়েছে, গুজরাটে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারবাসীদের ওপর আক্রমণের পর বারাণসীতে 'ইউপি-বিহার একতা মঞ্চ' নামে একটি গোষ্ঠী তৈরী হয়েছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন মহাত্মা গাঁধী কাশী বিদ্যাপিঠের প্রাক্তন ছাত্র বিশ্বনাথ কুঁয়ার। এই গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বারাণসী শহরের বেশ কিছু জায়গায় 'নরেন্দ্র মোদী, বারাণসী ছাড়ো' ও 'উত্তরভারতীয়দের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো' লেখা পোস্টার ছড়ানো হয়েছে। প্রথমে দলের পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়। যেখানে লেখা ছিল, 'গুজরাট, মহারাষ্ট্রে উত্তরভারতীয়দের ওপর হওয়া হিংসার বিরুদ্ধে বারাণসী থেকে লড়াই ঘোষণা করা হলো।'

এরপর গত মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে আর একটি পোস্টার ছড়ানো হয়। যেখানে লেখা ছিল, 'বারাণসীতে বসবাসকারী সমস্ত গুজরাটী ও মহারাষ্ট্রীয়দের এক সপ্তাহের মধ্যে বারাণসী ছাড়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। নইলে এর ফল ভোগ করার জন্য তৈরী থাকতে হবে।'

দলের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বনাথ কুঁয়ার মোদীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, 'আমরা নরেন্দ্র মোদীকে সম্মান করি এবং দেশ শাসন করার জন্য এই এলাকা থেকে আমরাই ওনাকে নির্বাচিত করেছিলাম। কিন্তু আজ যখন ইউপি ও বিহারবাসীদের ওপর গুজরাটীরা আক্রমণ করছে তখন তিনি চুপ করে আছেন। গুজরাটীদের হাতে মার খাওয়ার জন্য কি আমরা ওনাকে জিতিয়েছিলাম?'

হুমকির সুরে তিনি আরও বলেন, যদি এই ঘটনা চলতে থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে আবার গুজরাটে ফিরে যেতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বারাণসীর SSP জানিয়েছেন, "কিছু এলাকা থেকে এরকম পোস্টারের কথা আমরা জানতে পেরেছি। প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে করা উচিত। কিন্তু অপরাধ পর্যায়ে গিয়ে প্রতিবাদের অনুমতি সমর্থন যোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।"


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন