রক্ষকই ভক্ষক! সহায় সম্বলহীনদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বানানো শেল্টার হোমগুলিই এখন সেখানকার বাসিন্দা বিশেষ করে মহিলাদের জন্য চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত কয়েকদিনে বেশ কিছু আলাদা আলাদা শেল্টার হোমগুলিতে হওয়া নির্যাতনের ঘটনা সংবাদ শিরোনামে এসেছে। সেই তালিকায় নবতম সংযোজন মধ্যপ্রদেশের ভোপালের শেল্টার হোমের কাহিনী।

ভোপালের একটি ব্যক্তিগত শেল্টার হোমের মালিক দিনের পর দিন ওই হোমের বাসিন্দাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই নির্যাতনের কারণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই হোমের পাঁচ অধিবাসী তিনজন মেয়ে ও দু'জন ছেলের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ওই হোমের মালিক, ৭০ বছর বয়সী প্রাক্তন সেনাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওই পাঁচজন প্রথম সরাসরি পুলিশের কাছে না এসে সামাজিক বিচার কার্যালয়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে পুলিশের কাছে আসে তারা।

ওই পাঁচজনের অভিযোগ অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই নির্যাতনের কারণে হোমের তিনজন বাসিন্দা মারা গিয়েছে। প্রথমে একটি ছেলে মারা যায়। যৌন নির্যাতনের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে মারা যায় ছেলেটি। এরপর দেওয়ালের সাথে ধাক্কা মেরে, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় একজনের। সেও মারা যায়। আর একজনকে ঠান্ডাতে সারারাত বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল, তারও মৃত্যু হয়।

সামাজিক বিচার কার্যালয়ের ডিরেক্টর, কৃষ্ণমোহন তিওয়ারী জানিয়েছেন, "কিছু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছাত্রছাত্রী তাদের ব্যাখ্যাকারদের নিয়ে আমাদের অফিসে আসে। তারা আমাদেরকে একটি চিঠি দেয়, যেখানে হোমের মালিক কিভাবে তাদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালায়, তার বর্ণনা ছিল। আমরা কালেক্টর ও উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারদের এ বিষয়ে চিঠি লিখে জানিয়েছি এবং তদন্তের আবেদন করেছি।"

২০০৩ সাল থেকে হোমটিতে ৪২ জন ছেলে ও ৫৮ জন মেয়ে থাকে। গত দশ বছর ধরে চারজন শিক্ষক এই হোমের দেখাশোনা করে। হোমটিতে কোনো স্থায়ী তত্বাবধায়ক নেই।

যদিও হোমগুলিতে হওয়া নির্যাতনের ঘটনা বারবার সংবাদ শিরোনামে আসায় বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী গত মাসেই প্রত্যেক হোমে মাসিক পরিদর্শনের আদেশ জারি করেছিলেন এবং প্রতিটি মহিলা হোস্টেলগুলিতে গাইডলাইনের ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই নির্দেশ যে কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এই ঘটনাতেই তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

(ছবি প্রতীকী)


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন