মাছ ধরা হলে ব্রাহ্মণদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগবে। সেই কারণে গুজরাটের প্রতাপসাগর জলাশয় থেকে মাছ ধরা যাবে না। এই মর্মে শবরীকান্থা জেলা কালেক্টর মৎস্যজীবীদের লাইসেন্স বাতিল করেন।

এই লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে করা মামলায় গুজরাট হাইকোর্টে জোর ধাক্কার মুখে গুজরাট সরকার। মাছ ধরার চুক্তিপত্র বাতিল করায় হাইকোর্টে আবেদন করেছিল মৎস্যজীবীদের একটি সংস্থা, আশা মৎস্য বিকাশ খেদুত মঙ্গলম মন্ডল-এর সভাপতি আশাবেন মাক্বানা। গত বুধবার বিচারপতি অনন্ত দেব ও বীরেন বৈষ্ণব সেই আবেদনের ভিত্তিতে সরকারের জবাব চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে গুজরাট হাইকোর্ট। আগামী ৯ই সেপ্টেম্বর সরকারকে এর জবাব দিতে হবে।

গুজরাটের শবরীকান্থা জেলা কালেক্টর কিছু ব্রাহ্মণগোষ্ঠীর অনুরোধে সম্প্রতি মৎস্যজীবীদের লাইসেন্স বাতিল করেন। এছাড়াও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের উল্লেখ করে মৎস্যজীবীদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন ওই জেলারই বাসিন্দা হীরালাল যোশী।

আরও পড়ুন - 

আশাবেনের দায়ের করা আবেদন অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাস থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রতাপসাগর জলাশয়ে মাছ ধরার টেন্ডার পেয়েছিল আশাবেনের সংস্থা। কিন্তু ২০১৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারী তাঁদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কারণ, ব্রাহ্মণ সমাজের কিছু ব্যক্তি প্রতাপসাগরে মাছ ধরা নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাঁদের মতে এই জলাশয়ে মাছ ধরলে ধর্মীয় আবেগে আঘাত আসবে।

যদিও জনস্বার্থ মামলা দায়েরকারী যোশী এই বছর এপ্রিলে তাঁর মামলা প্রত্যাহার করে নেন এবং জেলা কালেক্টরের অফিসে একটি চিঠি লিখে জানিয়ে দেন, প্রতাপসাগরে মাছ ধরা নিয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। যোশীর আইনজীবীর দাবি, তিনি মামলা প্রত্যাহার করা সত্ত্বেও সরকার মৎস্যজীবীদের লাইসেন্স ফিরিয়ে দিচ্ছেন না।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন