"ধর্মঘট হবেই, আর এই ধর্মঘট ভাঙতে এলে যে অশান্তি হবে- তার জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলনকে মমতা ব্যানার্জি সমর্থন করবেন এমন আশা আমরা কোনোদিনই করি না। এর আগেও মমতা ব্যানার্জির প্রশাসন আমাদের ধর্মঘটকে বানচাল করার চেষ্টা করেছেন।"- শনিবার বেহালা চৌরাস্তায় এক জনসভায় এই ভাষায় রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।

তিনি আরও বলেন- "ইদানিং কেউ কেউ বলছেন মোদী আর মমতাকে এক করে দেখা উচিৎ হবে না। আরে বাবা, এদেরকে এক ভাবতে যাব কেন? তৃণমূল তো বিজেপির তুলনায় খুচরো। কিন্তু রাজ্যে বিজেপিকে এনেছে তো তৃণমূলই। বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিটি লড়াইয়ে উনি প্রতি পদে পদে বাধা দিচ্ছেন। আজ পর্যন্ত রাজ্যে আমাদের ২০০ জনের বেশি কর্মী খুন করেছে।"

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য- আগামী ২৬ নভেম্বর ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের সাথেই আগামী সপ্তাহে ২ দিনের কৃষক বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই বিক্ষোভকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে সমস্ত শ্রমিক সংগঠন। গত সোমবার এক বৈঠকের পর এই কথা ঘোষণা করা হয়েছে শ্রমিক সংগঠনের তরফে। আগামী ২৬-২৭ নভেম্বর অল ইন্ডিয়া কিষাণ সংঘর্ষ কো অরডিনেশন কমিটির ডাকে দিল্লিতে বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করা হবে।

বেহালা চৌরাস্তার জনসভা থেকে গতকাল তিনি আরও বলেন- আপনি তৃণমূল অথবা বিজেপির সমর্থক হতেই পারেন। কিন্তু ধর্মঘটের দাবিগুলো একবার মাথায় রাখুন। সবই সাধারণ মানুষের দাবি। যেখানে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বলছে অর্থনীতিতে গত শতকে সবচেয়ে খারাপ মন্দা আসতে চলেছে, মানুষের হাতে নগদ টাকা দেওয়ার প্রয়োজন- যাতে ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে, বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহের প্রয়োজন। আমাদের দাবি তো এই গুলোই। অনেকে ধর্মঘটকে কর্মনাশাও বলছেন। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে কেন্দ্র সরকারের ভ্রান্ত নীতির জন্য প্রায় ১৫ কোটি মানুষ কর্মহীন হয়েছেন। একদিন কাজ বন্ধ রেখে সেই সমস্ত নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হলে ধর্মঘট ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এই ধর্মঘট দেশে নতুন আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটাবে।"


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন