"ভারতীয় সংবিধানের মূল পাঁচটি যে বৈশিষ্ট্য - সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক - এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্যই আজ আক্রান্ত। এই সময় আমরা আমাদের পার্টির শতবর্ষে উপনীত হয়েছি। আমাদের পার্টির ঐতিহ্য দিয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে আমাদের। এটাই আমাদের কাছে চ‍্যালেঞ্জ।" ভারতে কমিউনিস্ট পার্ট প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে শনিবার কলকাতায় আয়োজিত এক সভায় একথা বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। 

ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উপলক্ষ্যে কলকাতার প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে আজ এক সভার আয়োজন করেছিল সিপিআইএম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি। করোনা আবহে সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন করা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ‍্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও।

এই সভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় দলের সূচনা লগ্ন থেকে এখনও পর্যন্ত বারবার দলীয় কর্মীরা কীভাবে শাসকের রোষানলে পড়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তা বিস্তারিত বলেছেন সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি বলেন, "১৯২০ সালে ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি গঠনের পর থেকেই আক্রমণের মুখোমুখি পড়েছে দল। ১৯৪৩ সাল দলের প্রথম পার্টি কংগ্রেসে যে ১৩৮ জন ‌প্রতিনিধি ছিলেন, শাসকের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলায় যে সময় জেলে অতিবাহিত করেছিলেন তাঁরা, প্রত‍্যেকের সেই সময় একত্রে যোগ করলে যোগফল হবে ৪১৪ বছর, যেটা রেকর্ড। স্বাধীনতার সময় আমাদের কমরেডদের নিরন্তর লড়াইয়ের প্রমাণ এটা। স্বাধীনতার আগে ও পরে লক্ষ লক্ষ কমরেডকে বিনা অপরাধে আটক করা হয়েছিল। হাজার হাজার কমরেডকে হত‍্যা করা হয়েছে।"

বর্তমান কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে রাজ‍্য‌ সরকারের সমালোচনা করে সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, "দেশের যে রাজ‍্যগুলিতে তুলনামূলকভাবে সবথেকে কম কোভিড টেস্ট করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ তাদের মধ্যে একটি। আমরা রাজ‍্যের‌ করোনা পরিস্থিতির সঠিক পরিসংখ্যান পাচ্ছি না। রাজ‍্যে ICMR যে সার্ভে করেছিল সেখানে কলকাতার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের শরীরে অ‍্যান্টিবডি মিলেছে। অর্থাৎ এরা কোনো না কোনোভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। যদিও এই সার্ভের রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি রাজ‍্য সরকার। এর জন্য কেন্দ্র সরকারও দায়ী কিছুটা।"

দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর বার্তা, "আমাদের প্রথম কর্তব্য কোনোরকম আতঙ্ক ছাড়া সমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে আমাদের। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর যে ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের বোঝা চাপছে, তার বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে আন্দোলনের রূপ দিতে হবে আমাদের।"

 


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন