"এই সরকারের আমলে সংবাদমাধ্যমের জিভ কেটে নেওয়া হয়েছে। কী হেডলাইন হবে তা বলে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন হেডলাইন ম‍্যানেজমেন্ট করা হচ্ছে।" বিজেপি শাসিত কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করে একথা বললেন সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম।

ভারতে কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আজ কলকাতার প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। করোনা আবহে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুব সীমিত সংখ্যক লোক নিয়ে এই সভা করা হয়েছিল। সেখানে কেন্দ্রের সমালোচনা করে মহম্মদ সেলিম বলেন, "সুশান্ত সিং রাজপুত-রিয়া চক্রবর্তী দিয়ে দেশের যাবতীয় সমস‍্যা থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু যখন তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়ে দিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন এবং রিয়া চক্রবর্তীর গল্পটা যখন আর চললো না তখন হাথরসের ঘটনা নিয়ে টনক নড়েছিল সংবাদমাধ্যমের। কারণ তখন কৃষিবিল নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। পাঞ্জাবের কৃষকরা রিলায়েন্সের সমস্ত পেট্রোল পাম্প দখল করে নিয়েছে। মোগাতে আদানির সাইলো দখল করে নিয়েছে। এগুলো থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই হাথরস নিয়ে খবর করেছিল সংবাদমাধ্যম। ১৫ দিন আগে নির্যাতিতাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করা হয়েছিল। হাথরসের ঘটনায় নির্যাতিতার জিভ কেটে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু যারা এটা নিয়ে প্রতিবাদ করবে, লিখবে সেই সংবাদমাধ্যমের জিভও কেটে দেওয়া হয়েছে।"

বাম নেতার কথায়, "কোভিড-১৯ এর পর পুঁজিবাদের এক্স-রে রিপোর্ট মানুষের সামনে এসে গেছে। সামন্ত প্রভু, পুঁজিপতিরা ছাড়া শ্রমিক, কৃষক, হকার, দিনমজুর, বেসরকারি কর্মী, ছোট-মাঝারী শিল্পের মালিক সহ সমাজের প্রত‍্যেক শ্রেণির মানুষের কঙ্কালসার চেহারা সামনে এসে গেছে। মানুষের অধিকার আদায়ে ২৬ নভেম্বর আরএসএস অনুপ্রাণিত সংগঠন ছাড়া সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলো পথে নামছে।"

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পাশাপাশি রাজ‍্য সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, "আমরা নিশ্চিত আগামী ২৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আমাদের রাজ‍্যে আমরা যখন আন্দোলনে নামবো তখন আমাদের বাধা দেবে রাজ‍্য সরকার। ধর্মঘটের আগে বিবৃতি জারি করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ তৃণমূল দল বিজেপির অনুপ্রেরণায় চলে। যারা ভাবছেন তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচতে বিজেপিকে আনা উচিত, তারা ভুল ভাবছেন। ত্রিপুরা থেকে শিক্ষা নিন। গোটা দেশেই বেকারত্ব, নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে।"

ভারতে কমিউনিস্ট আন্দোলন সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের দেশে শ্রেণিশোষণের পাশাপাশি জাতিভেদ, বর্ণভেদের প্রথা সামাজিক স্তরীকরণ রয়েছে। স্বাধীনতার আগে এই এই ভেদাভেদ আরো প্রবল ছিল। সেই ভেদাভেদ ভুলে ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গড়ে তুলতে ১৯২০ সালে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া তৈরি করা হয়েছিল।... এমন সমাজ যেখানে মানুষ মানুষকে শোষণ করবে না। সমাজে এই আলো আনতে হবে। এটাই মার্ক্সবাদ। পুঁজিবাদের পর সমাজতন্ত্র আসবেই। কিন্তু তা এমনি এমনি আসবে না। এর জন্য অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে। সংগ্রাম করতে হবে। মানুষ তৈরি করতে হবে।‌ সংগঠক তৈরি করতে হবে।‌ ১০০ বছর ধরে সেই কাজই করছি আমরা।"


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন