ক্রমশ বাড়ছে এটিএম জালিয়াতির অভিযোগ। মঙ্গলবার পর্যন্ত শুধু যাদবপুর থানাতেই এটিএম থেকে টাকা উধাও হওযার 45 টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অন্য দিকে চারুমার্কেটে ওই একই অভিযোগ করেছেন ১৩ জন ব্যাঙ্কের গ্রাহক। এদিকে ক্রমাগত অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এটিএম জালিয়াতি নিয়ে গোটা শহরজুড়ে ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিন রাজ্য বিধানসভাতেও এই এটিএম জালিয়াতির প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, যেভাবে ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন তা যথেষ্টই উদ্বেগজনক। প্রতারণা ঠেকাতে রাজ্য সরকারকে একটি গাইডলাইন তৈরি করার পরামর্শও তিনি দেন। 

এদিকে শহরে এই এটিএম জালিয়াতি নিয়ে লালবাজার গোয়েন্দা শাখা তদন্ত শুরু করলেও এদিন পর্যন্ত এই প্রতারণার পিছনে কোন চক্রের হাত আছে তার কোনও হদিশ পায়নি। যদিও এই প্রতারণা চক্রের হদিশ পেতে একটি বিশেষ তদন্তকারি দল তৈরি করেছে গোয়েন্দা শাখা। এই দলে ব্যঙ্ক দুর্নীতি দমন শাখা, ফরেন্সিক এবং সাইবার ক্রাইম শাখার অফিসারদের যুক্ত করা হয়েছে।

এদিন লালবাজারে কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি ' মুরলীধর শর্মা বলেন, এই প্রতারণার ঘটনায় বিভিন্ন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের ইতিমধ্যেই বৈঠক হয়েছে। এই সঙ্গে তিনি জানান , শহরে সমস্ত এটিএমই সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। কারণ আড়াইশো এটিএমে কোনও নিরাপত্তারক্ষী নেই। এমনকি সমস্ত এটিএমেই অ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস লাগানো হয়নি। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে প্রতারকদের ফাঁদ বন্ধ করতে প্রতিটি এটিএমে অ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস বসানোর জন্য। আগামী জানুয়ারী মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে হবে। একইসঙ্গে জয়েন্ট সিপি ক্রাইম প্রতারকদের থেকে বাঁচতে তিন থেকে ছ মাস অন্তর এটিএমের পিন নম্বর পরিবর্তন করার জন্য পরামর্শ দেন। তিনি জানিয়েছেন , পুলিশের পক্ষ থেকে এটিএম কাউন্টারগুলির আশপাশে ইতিমধ্যেই মোটরবাইক নিয়ে পেট্রোলিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে লালবাজারের একটি দল ইতিমধ্যেই প্রতারকদের সন্ধানে দিল্লিতে গিয়েছে। কারণ ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের অভিযোগ, গত ৭২ ঘন্টার মধ্যে দিল্লির এটিএম কাউন্টার থেকেই তাদের টাকা তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সূত্র এবং দিল্লির কয়েকটি এটিএম কাউন্টারের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে  তদন্তকারীদের মনে হচ্ছে তিন জন প্রতারক এই কাজ করেছে। প্রতারকদের দেখে মনে হচ্ছে তারা রোমানিয়ান অথবা তুর্কির বাসিন্দা।

তদন্তকারীদের অনুমান , গত এপ্রিল মাসে নতুন করে কলকাতার যাদবপুর ও টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বিভিন্ন এটিএমে রোমানিয়ান অথবা তুর্কির প্রতারকরা স্কিমার মেশিন বসিয়েছিল। সেই সব এটিএম কার্ডের তথ্যকে কাজে লাগিয়ে এখন নতুন করে টাকা তুলে নিচ্ছে তারা। তবে গোয়েন্দারা এখনই নিশ্চিত হতে পারছেন না কতজন গ্রাহকের তথ্য হ্যাক হয়ে রয়েছে। আরও কত এটিএম মেশিনে স্কিমার বসানো হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য মিলছে না।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন