এবারের ৬ ই ডিসেম্বর অন্যান্য বছরের থেকে আলাদা কেননা এবারে বিশ্বহিন্দু পরিষদ, সংঘপরিবার এবং বিজেপির নেতা নেত্রীরা বলছেন এই ৬ ই ডিসেম্বর যেখানে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছিল সেখানে রাম মন্দির বানানোর কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করতে হবে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৬ তম বর্ষ পূর্তির প্রাক্কালে এই ভিডিও বার্তায় একথা জানালেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।

তিনি ওই বার্তায় বলেন - এবারে এই রাজ্যে এবং কেন্দ্রের শাসকদল নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে এই বিভাজনটাকে তীব্র করার চেষ্টা করছে। স্বাধীনতার পর আমাদের দেশে বা রাজ্যে এই ধরনের পরিস্থিতি কখনোই তৈরি হয়নি। বাবরি মসজিদ ভাঙার সময় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল আরো অনেক বেশি আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে সেটাকে আরো প্রসারিত করার চেষ্টা চলছে। কারণ, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার তাদের জনবিরোধী নীতির জন্য জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। শ্রমিক, কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষ, বেকার যুবক যুবতীর জীবনে সর্বনাশ নেমে এসেছে। শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা সমস্ত ক্ষেত্রে সংকট চলছে। তারসাথে চলছে প্রশাসনের উচ্চস্তরে নজীরবিহীন দুর্নীতি ও লুট। ফলে দেশের মানুষের সর্বনাশ হচ্ছে অল্প কয়েকটি পরিবারের হাতে সম্পত্তি নিহিত হচ্ছে।

 

বিজেপির প্রস্তাবিত রথযাত্রা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন তিনি বলেন - ডিসেম্বরের পরেই ভারতীয় জনতা পার্টি বা তথাকথিত "ভারতীয় যাত্রা পার্টি”র যাত্রা শুরু হয়। এবারে পশ্চিমবঙ্গের তিন জায়গা থেকে যাত্রা শুরু হবে এবং এই যাত্রার উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট, বিভাজন ও মেরুকরণকে তীব্র করা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করা। আমাদের রাজ্যে বর্তমান সরকারের আমলেই এদের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে তিন জানান - অতীতের ঘটনা সম্পর্কে জানা আছে যে মুখ্যমন্ত্রীকে আর এস এসের অফিসে 'মা দুর্গা' বলে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছিল এবং উনিও ওদের 'দেশপ্রেমের' সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। উনি দুবারই কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। উনিই এই আর এস এস, বিজেপি দলকে বাংলায় ডেকে নিয়ে এসেছেন। এরা সরকারে আসীন হবার পর বিজেপির শাখা, শক্তি ও কর্মতৎপরতা এ রাজ্যে অনেক বেড়ে গেছে। আদবানীর রথযাত্রা বিহারে ঢুকলে তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব আদবানীকে গ্রেফতার করেছিলেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন - আবারো বলছি যদি আপনি বাইরে বিজেপি সম্পর্কে যা বলছেন যদি হিম্মত থাকে পশ্চিমবঙ্গে রথযাত্রা আটকান, এটা হতে দেবেন না। এই যে ষঢ়যন্ত্র হচ্ছে তাকে পরাস্ত করতে। বামপন্থীরা রাস্তায় আছে। কিন্তু সরকারকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ৩৪ বছরে এসমস্ত কখনোই পশ্চিমবঙ্গে হয়নি, হতে দেওয়া হবেনা, কখনো এসব শক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু এই সরকারের আমলে যেটা হচ্ছে  সেটা খানিকটা প্রশ্রয়ে এবং খানিকটা প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতার ফলে। সেই জন্য মুখ্যমন্ত্রী যদি মিছিলই করেন তাহলে বিজেপির সঙ্গে একসাথেই করুন কেননা ওদেরও ভোট যাত্রা আপনারো ভোট যাত্রা, আছেনই তো আপনারা একসাথে। তবে এমন কোন পরিস্থিতি তৈরি করবেনা যাতে সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকবে আর বিভাজনের সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি তাকে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য ছিলো তা এখন একটা নজিরবিহীন আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে। নতুন করে আগুন জ্বলবে তা কখনোই মেনে নেওয়া হবেনা। এটা মোকাবিলার রাস্তা একটাই তা হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মানুষের প্রতিবাদ। ১৭ টা বাম সহযোগী দল মিলে আগামী ৬ ই ডিসেম্বর কলকাতায় কেন্দ্রীয় ভাবে মহামিছিলের ডাক দিয়েছে। এছাড়া জেলায় জেলায়, মহকুমা স্তরে এবং আরো নীচে প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হচ্ছে, যাতে এর বিরুদ্ধে মানুষকে প্রতিবাদে সামিল করা যায়। আমরা সমস্ত বাম গনতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির কাছে এবং দলমত নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের কাছে আবেদন করতে চাই পশ্চিমবঙ্গে শান্তি, শৃঙ্খলা,  সৌহার্দ্যের পরিবেশের উপর এবং সংবিধানের মূল ধর্মনিরপেক্ষতা তার উপর যে আক্রমণ নেমে আসছে তার মোকাবিলা করতে আপনারা সামিল হোন।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন