ইস্টার ডে-র দিনে নৃশংস জঙ্গীহানায় রক্তাক্ত হয়েছিল লঙ্কাপুরী। প্রাণ হারিয়েছে প্রায় তিনশোর অধিক মানুষ। আহত কয়েক শ। আক্রমণকারী সন্ত্রাসবাদীদের হদিস পেলেও তাদের ধরতে ব্যর্থ হয় শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনী।

জঙ্গীদের ধরতে ব‍্যর্থ হওয়ার পেছনে শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনী দায়ী করছে বোরখাকে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইস্টার সানডের পরের দিন কলম্বোর নিকটবর্তী দেমাতাগোডা এলাকায় জঙ্গিরা আশ্রয় নিয়েছে। তৎক্ষণাৎ এলাকা ঘেরাও করে সেনাবাহিনী। কিন্তু জঙ্গিরা সেনাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়। যার কারন হলো বোরখা। বোরখা পরেই সন্ত্রাসবাদীরা চম্পট দেয়। মুখ ঢাকা থাকায় তাদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয় সেনাবাহিনী। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে শ্রীলঙ্কান সরকার দ্বীপরাষ্ট্রে বোরখা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।

বোরখা নিষিদ্ধ করা সম্পর্কিত আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক মহলে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনার সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে। এছাড়াও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন দেশের সরকার। ধর্মের আড়ালে যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনগুলি, তাদের স্তব্ধ করতে দ্বীপরাষ্ট্রের সরকার এমন সিদ্ধান্তই নিতে চলেছে।

ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক্সিকিউটিভ কমিশনের প্রধান জিন-ক্লদ জাঙ্কার জানান, এই বোমা হামলা আমাদের ভয় ও দুঃখবোধে ভরিয়ে দিয়েছে। বিশ্বে শান্তি বজায় রাখতে সমস্ত সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদের আহ্বান জানিয়েছে আরব আমিরশাহী। এছাড়াও বাহারিন প্রদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,  এমন সন্ত্রাসী হামলা ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায়।

(ছবি প্রতীকী)


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন