যে একাধিক কারণে সনিয়া গান্ধীর গড় রায়বেরেলি রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রিয়ঙ্কার কাছে

রাহুল গান্ধীর কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত আমেঠি গত লোকসভা নির্বাচনেই কেড়ে নিয়েছে BJP। তাদের নজর এবার সনিয়া গান্ধীর রায়বেরিলিতে। উত্তরপ্রদেশ থেকে গান্ধী পরিবারকে উচ্ছেদ করার জন্য নীরবে কাজ করে যাচ্ছে BJP।
যে একাধিক কারণে সনিয়া গান্ধীর গড় রায়বেরেলি রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রিয়ঙ্কার কাছে
ফাইল ছবি

আগামী বছরের গোড়াতেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। গত কয়েক বছরে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের অবস্থা তলানিতে ঠেকেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলকে আবার রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে ওভারটাইম কাজ করছেন দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। কিন্তু এতো কিছু সত্ত্বেও তাঁর মা সনিয়া গান্ধীর সংসদীয় কেন্দ্র রায়বেরিলি তিনি রক্ষা করতে সক্ষম হবেন না বলে অনুমান রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশেরই।

গত কয়েক বছর ধরে রাহুল গান্ধীর কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত আমেঠি গত লোকসভা নির্বাচনেই কেড়ে নিয়েছে বিজেপি। তাদের নজর এবার সনিয়া গান্ধীর রায়বেরিলিতে। উত্তরপ্রদেশ থেকে গান্ধী পরিবারকে উচ্ছেদ করার জন্য অত‍্যন্ত সন্তর্পনে কাজ করে যাচ্ছে বিজেপি।

রায়বেরিলিতে দলের ভিত্তি প্রসারের দায়িত্ব রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানীর ওপর, যিনি ২০১৯ সালে আমেঠিতে রাহুল গান্ধীকে পরাজিত করেছিলেন। ইতিমধ্যেই নিজের কাজে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন স্মৃতি ইরানী। রায়বেরিলি লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা দুই বিধানসভার কংগ্রেস বিধায়ক - অদিতি সিং এবং রাকেশ‌ সিং, বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। রায়বেরিলির কংগ্রেস এমএলসি দীনেশ প্রতাপ সিংও সেই পথ অনুসরণ করেছেন। এছাড়াও আরো একাধিক সিনিয়র কংগ্রেস নেতা এবং তাঁদের সাথে বহু কর্মী দল ছেড়েছেন।

সম্প্রতি হওয়া দুই জেলার জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনেও জয়ী হয়েছে বিজেপি। গত জুলাইতে রায়বেরিলি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় এবং পর্যবেক্ষণ কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে সনিয়া গান্ধীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন স্মৃতি ইরানী।

দুই বিধায়ক সহ কয়েকজন সিনিয়র নেতার দলত‍্যাগ রায়বেরিলিতে কংগ্রেসকে ব‍্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর ওপর শারীরিক সমস‍্যার কারণে নিজের এলাকায় দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছেন সনিয়া গান্ধী, যা বাকি কংগ্রেস কর্মীদেরও মনোবল একেবারে ভেঙে দিয়েছে।

প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর ওপর রায়বরেলী এবং আমেঠির দায়িত্ব থাকলেও, রাজ‍্যের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ব‍্যস্ত থাকার কারণে এই দুই নির্বাচনী এলাকায় বেশি সময় দিতে পারেননি তিনি। অন‍্যদিকে এই সুযোগকেই পুরো কাজে লাগিয়েছে বিজেপি।

রায়বেরিলি এবং আমেঠি - দুটি লোকসভা মিলিয়ে মোট ১০টি বিধানসভা রয়েছে। এই দশটির একটিতেও কংগ্রেসের বিধায়ক নেই এই মুহূর্তে। রায়বেরিলির এক সিনিয়র কংগ্রেস নেতা ইন্দ্রেশ বিক্রম সিং জানিয়েছেন, অন‍্যদল‌ থেকে আসা নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীর সময়কার নেতাদের কোনো গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছে না। এখন সময় এসেছে তাঁদের গুরুত্ব দেওয়ার। দলকে সমস্ত ইস‍্যুতে তাদের অবস্থান দৃঢ় করতে হবে। নেতাদের নিজেদেরকে জনগণের কাছে অ‍্যাক্সেসযোগ‍্য করে তুলতে হবে।

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in