‘এক একটা এমন কাল আসে পৃথিবীতে যখন গুনীজনেরা সব চুপ করে থাকেন, আর যে অত্যাচারিত হয় সে ক্রমান্বয়ে হয়েই যায়।’ নাথবতী অনাথবৎ নাটকে এই কথাগুলি যখন কথক বলেন, তখন পারিপার্শ্বিক থাবা যেন আমাদের কন্ঠনালীতে চেপে বসে। যদিও পটভূমি মহাভারতের সমাজ। সারা পৃথিবী জুড়ে মানুষের প্রতি মানুষের যে অমানবিক নিষ্পেষণ তার বিরুদ্ধে ব্যঙ্গে, বিদ্রুপে, কটাক্ষে, প্রতিবাদে এক মানবতার নাটক নাথবতী অনাথবৎ।

আঘাতজনিত কারণে দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকার পর আবার মঞ্চে নাট্যব্যক্তিত্ব শাঁওলি মিত্র। বুধবার আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসে দীর্ঘদিন পর নাথবতী অনাথবৎ-এর অভিনয়ে কৌরব রাজসভায় দ্রৌপদীর লাঞ্ছনাভূমির উপর দাঁড়িয়ে কথক বলেন, 'আচ্ছা বাবুমশাইরা, যাদের হাতে ক্ষমতা থাকে তারা তাদের চারপাশের মানুষকে কখনো শান্তিতে থাকতে দেয়? আধুনিক সমাজের ক্ষমতার সমস্ত পীঠস্থানগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সব যেন নির্ভেদ কৌরব রাজসভা। তাই নাথবতী অনাথবৎ নাটক আধুনিক জীবনের আখ্যান তথাকথিত নারীবাদী নাটক নয়। এক একটা ব্যবস্হায় যখন ক্ষয় ধরে, তখন তার ক্ষমতার মোহ, নৃশংস আগ্রাসন, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। দৌপদী আগ্রাসনেরই অসহায় শিকার।

নাটক যতই এগিয়ে চলে দ্রৌপদী শুধুমাত্র নারী থাকেনা নিপীড়িত মানুষের প্রতিভূ হয়ে ওঠে সে। যুদ্ধদগ্ধ জমির উপরে দাঁড়িয়ে কথক বলেন, "কোন ধর্মের, কোন ন্যায়ের, এ কোন রাজ্যের রাজ্ঞি হবে সে! সেই এক পুরনো মৃতপ্রায় যুগের কষ্ট দ্রৌপদী ভোগ করেছিল তাঁর নিজের জীবন দিয়ে। এই রকম এক আগ্রাসনকারী যুগের নৃশংস প্রতিচ্ছবি এই নাথবতী অনাথবৎ।

নাট্যব্যক্তিত্ব শাঁওলি মিত্র ১৯৮৩ তে নাথবতী অনাথবৎ নাট্যে নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছিলেন। আজ দীর্ঘ ৩৫ বছর পরেও গভীর আগ্রহে নাট্যপ্রেমী মানুষের অপেক্ষা প্রমাণ করে নাথবতী অনাথবৎ কালজয়ী।


জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন