৪-এ পা। পিপলস রিপোর্টারের তিন বছর কাটলো গুজব এড়িয়ে, পাঠককে খবরে রেখেই। যা অবশ্যই ছোটোখাটো এক যুদ্ধের সমান। অসম যুদ্ধ। কারণ, সময়টা এমনই - যখন বিক্রি করাই ধর্ম, বিক্রি হওয়াই ধর্ম। খোলা বাজারের এই বিকিকিনিতে মুড়ি মিছরির ফারাক তৈরি করার চেষ্টা চালানোটাই মূল লড়াই। সেটাই পিপলস রিপোর্টার করে এসেছে তিন বছর ধরে।

দু’জন। সেখান থেকে আরও কয়েকজন। ক্রমশ একটু একটু করে বেড়ে ওঠা। পথ চলা প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করে, জয় করার চেষ্টা করে। এই মুহূর্তে পিপলস রিপোর্টার পরিবার অনেকটাই বড়। যদিও অদম্য জেদ ছাড়া এখনও নিধিরাম সর্দারদের কাছে ঢাল, তরোয়াল কিছুই নেই। একটা ছোটো প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্যও যে পরিমাণ রসদের প্রয়োজন, তা আজও সংগ্রহ, জোগাড় – কিছুই করে উঠতে পারেনি পিপলস রিপোর্টার। যদিও চলার পথে কিছু শুভানুধ্যায়ী হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কখনও কখনও। বাকীটুকু চার্বাক পন্থায়…

তবে হ্যাঁ। প্রশ্রয় আছে অনেকেরই। তাঁরা অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে গেছেন লাগাতার। নেপথ্যের হাতে গোনা সেই প্রশ্রয়দাতাদের প্রতি একরাশ কৃতজ্ঞতা। যারা প্রশ্রয় না দিলে পিপলস রিপোর্টার এতটা পথ পেরোতে পারতো না। এই পথের বাঁকে বাঁকে যে লড়াই, কানাগলিতে ঢুকে পথ হারানোর যে ভয় তাকে জয় করতে পারতো না।

পিপলস রিপোর্টারও পারতো চটকদার হেডিং আর দিনপ্রতি চারটে ধর্ষণ, পাঁচটা খুন, ছটা বিনোদনের খবর দিয়ে ওয়েবসাইট ভরিয়ে দিতে। তাতে হয়তো আরও বেশি পাঠক পেতো, পোস্ট বেশি শেয়ার হতো, লাইকের বন্যা বয়ে যেত। কিন্তু, সে পথে হাঁটেনি পিপলস রিপোর্টার। পিপলস রিপোর্টার চটকদারি হেডিং-এর থেকে ওজনদার খবরে বেশি বিশ্বাস রেখেছে। খবরের নামে গল্প ছড়ানোর দুনিয়া থেকে ছাঁকনি দিয়ে বেছে আলাদা করেছে খবরকে। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের সম্মান বজায় রাখতে সযত্নে এড়িয়ে চলেছে ফেক নিউজ।

কোনো বিশেষ পক্ষের কাছে নয়। পিপলস রিপোর্টার দায়বদ্ধ মানুষের কাছে। আপনাদের কাছে। হুমকি যে আসেনি তেমনটা নয়। তবু সেসব উপেক্ষা করে থমকে যাওয়া অসহিষ্ণু, অস্থির এই সময়ে মানুষের রুটি, রুজির লড়াইয়ের কথা তুলে ধরতে পিপলস রিপোর্টার দায়বদ্ধ। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এর কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগামী দিনেও হবেনা।

আপনারা পাশে থাকুন। সঙ্গে থাকুন। পিপলস রিপোর্টারকে এগিয়ে নিয়ে চলুন। আমরা আপোষে নেই, পাপোষে নেই, গুজবে নেই – খবরে আছি…

  

জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন