উপহার... সংহার... উপসংহার...!!!

উপহার... সংহার... উপসংহার...!!!
ফাইল ছবি সংগৃহীত

নরেন্দ্র মোদী হঠাৎ করে কেন বললেন ‘দিদি আমাকে মিষ্টি পাঠান’, ‘কুর্তা উপহার দেন’। নির্বিষ এই কথাগুলো কি সরল মনে এমনিই বলে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? বোধহয় না। কারণ, যে রাজনৈতিক দলের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করার আগে বহুবার ময়না তদন্ত করে নেওয়া হয়, বিস্তর কাটাছেঁড়া করা হয়, সেই দলের প্রধান সেনাপতি কোনো আলটপকা মন্তব্য করবেন না, একথা ধরে নেওয়াই যায়।

তাহলে কেন বললেন? প্রশ্ন লাখ টাকার। কিন্তু বাস্তব যা, তা হল তিনি একথা বলেছেন এবং যথারীতি সেই কথা নিয়ে শোরগোল পড়েছে। নির্বাচনী প্রচারের হাজারো অ্যাজেন্ডাকে পেছনে ফেলে আপাতত ট্রামে-বাসে, রাস্তায় বাজারে একটাই আলোচনা – ‘দিদি গোপনে দাদার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন।‘

যদিও সংসদীয় গণতন্ত্রে দেশের প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করবে চলবেন – এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়। এই কথা তো মোদী বিগত ৫ বছরে একবারও বলেননি। তাহলে শিয়রে সমনের সময় কেন?

দেশজুড়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের যা হাল হকিকত তাতে ব্যাকফুটে বিজেপি। এখনও পর্যন্ত যে ৩০২ আসনে ভোট হয়ে গেছে তার অধিকাংশ আসনেই শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে বিজেপিকে। যদি না অখিলেশ যাদবের ইভিএম নিয়ে অভিযোগ মিথ্যা হয়। সত্যি হলে কী হতে পারে তা জানেন স্বয়ং রামজী।

বিগত পাঁচ বছরের শাসনে সমস্ত ক্ষেত্রে কার্যত ব্যর্থ মোদী সরকারের পক্ষে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানো ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরি হয়নি, বেকার সমস্যা তুঙ্গে, লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা অনাদায়ী ঋণ মকুব, নোট বাতিল, জি এস টি, ভেঙে পড়া ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা – তালিকা আরও লম্বা করাই যায়। তাতে লাভ বিশেষ কিছু নেই। প্রত্যক্ষ আঘাত যতক্ষণ না মানুষের চার দেওয়ালে ধাক্কা মারছে ততক্ষণ তো ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’। সেখানে মোদী হোক বা দিদি – কেউ ভগবান শ্রীরাম তো কেউ সাক্ষাৎ দুর্গা। কাজেই…

আসলে গল্প অন্য। একদিকে দীর্ঘ ৮ বছর পর রাজ্য জুড়ে প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া আর অন্যদিকে দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া। যে হাওয়াকে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক দিয়েও আটকানো যাচ্ছে না। অতএব আগামী দুদিন মিডিয়া ব্যস্ত থাক ‘উপহার’-এর গল্প নিয়ে। এর মাঝখান দিয়ে টুক করে হয়ে যাক চতুর্থ দফা। এরপর বাকী দু দফার জন্য অন্য গল্পের প্লট তো তৈরিই আছে। সময়মতো দেশবাসীকে খাইয়ে দিলেই হবে।

তাই বেঁচে থাক গল্পেরা। মানুষের ন্যূনতম চাহিদার, (অধিকারও বটে) ছিটেফোঁটা মাঝে মাঝে পুস্প বৃষ্টির মত ওপর থেকে উড়ো খৈ গোবিন্দায় নম করে দিলেই হবে। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ আঙ্গুল চুষবে, আর ফাঁকতালে নেপোয় দই মেরে বেরিয়ে যাবে।

মাভৈঃ… কুম্ভকর্ণরা আজও ঘুমিয়ে… এখন ঢাক ঢোল বাজালেও ভাঙবে না। অতএব …

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in