অ্যাসিড টেস্ট পেরোতে পারলো না বিজেপি। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুন্য হাতেই ফিরতে হল কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলকে। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহারের উপনির্বাচন, কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার তাদের নিরাশ করলো রাজস্থান, ছত্তিশগড় এবং মধ্যপ্রদেশও। তেলেঙ্গানা বা মিজোরামে বিজেপি ক্ষমতা পেতে পারে একথা দলের অতি বড় সমর্থকও কখনও ভাবেননি। সে রাজ্যের মানুষ তো নয়ই।

রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং মিজোরামে বিজেপির পরাজয়কে শুধুমাত্র এক রাজনৈতিক দলের পরাজয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। হ্যাঁ, এই পরাজয় এক রাজনৈতিক দলের পরাজয় তো বটেই, কিন্তু এক্ষেত্রে এই পরাজয় তার চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

ক্রমশ একনায়কতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়া এক রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই পরাজয় দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিবাদও বটে। তারই সঙ্গে এই পরাজয় দেশের মূল সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নাম বদলের রাজনীতি, গরু কেন্দ্রিক রাজনীতি, মব লিঞ্চিং-এর রাজনীতি, মন্দির রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে এক সজোরে চপেটাঘাত বললেও খুব একটা ভুল হবেনা।

কেন্দ্রের বর্তমান সরকার বিগত নির্বাচনের সময় যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো তার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে সে প্রমাণ খোদ শাসকদল কতটা দিতে পারবে সে প্রশ্ন বিগত সময়ে ক্রমশ জোরালো হয়েছে। বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরি, কালো টাকা ফেরত আনা, সমস্ত দেশবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ করে টাকা এবং সর্বোপরি ‘আচ্ছে দিন’-এর গল্পে বুঁদ করিয়ে ক্ষমতা দখল করা গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষ সেগুলোকে এক এক করে ‘জুমলা’ বলেই বুঝতে শিখেছেন। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশের অন্নদাতাদের চরমতম দুর্দশা, নোট বাতিলের নামে দেশবাসীর কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, অপরিকল্পিত জিএসটি প্রয়োগ, রাফায়েল দুর্নীতি, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে মুষ্টিমেয় সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর বিদেশে পালিয়ে যাবার মত ঘটনা।

এই ফলাফলকে যারা অপ্রত্যাশিত বা ‘লড়াইতে জয় পরাজয় থাকেই’ বলে অতি সরলীকরণ করছেন তাঁদের বোঝা উচিত এই ফলই প্রত্যাশিত ছিলো। বিগত সময়ে বামেদের ডাকে কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্যের দাবীতে দেশ জুড়ে একের পর এক সফল পদযাত্রা, শ্রমিক কর্মচারীদের দেশজোড়া বিক্ষোভের অনুঘটক তো ছিলোই, তারই সঙ্গে ছিলো বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হবার প্রচেষ্টাও। যা দেশের মানুষকে অবশ্যই অন্য এক বার্তা দিয়েছে।

আগামী বছর দেশে সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনী ফলাফলের প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে বাধ্য। যে নির্বাচনের আগে উসকে দেওয়া হতে পারে রাম মন্দির ইস্যু বা সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি। এক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলো কতটা সাবধানী হবে, বামেরা দেশের মানুষকে আরও কতটা সচেতন করতে পারবে, তার ওপরেই নির্ভর করবে দেশের ভবিষ্যৎ।

জনপ্রিয় খবর

  • এই সপ্তাহের এর

  • এই মাস এর

  • সর্বকালীন